বিশ্বকাপের পর শ্রীলংকা সফর, সেটাই জাতীয় দলের হয়ে তামিমের সর্বশেষ ম্যাচ। এরপর ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তান তিন জাতি সিরিজে ‘বিশ্রাম’ নিয়েছিলেন মানসিক ধাক্কা কাটাতে। ভারত সফরে ছুটি নিয়েছিলেন ব্যক্তিগত কারণে। এবার পাকিস্তান সফরেও কিছু পর্যবেক্ষণ আছে তার! তিন দফা সিরিজের সবগুলোতে যেতে চান না তিনি।
বিসিবি সূত্রের খবর, তিনবারে পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেছেন দলের এই সিনিয়র ক্রিকেটার। যেতে চান যে কোনো একটি সফরে। যেহেতু তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজ পাঁচ দিনের সংক্ষিপ্ত সফর, সে ক্ষেত্রে প্রথম দফা পাকিস্তান সফরে তিনি দলের সঙ্গে যাচ্ছেন। বাকি দুই দফা তিনি পাকিস্তান সফরে নাও যেতে পারেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে সাকিব নেই, মুশফিকও যাচ্ছেন না, তাই টি২০র চেয়ে টেস্টে তামিমকে আরও বেশি প্রয়োজন।
কাল থেকেই জাতীয় দলের প্র্যাকটিস, তাই আজই দল ঘোষণা করা হবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দলে খুব বেশি নতুন মুখ রাখা হয়নি। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানান, ভারত সফরে খেলা টি২০ স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের ওপরই আস্থা রাখছেন তারা। যদিও মুশফিকুর রহিম পাকিস্তান সফর থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কোনো ফরম্যাটেই খেলবেন না তিনি। ২০১৮ সালে বিশ্ব একাদশের হয়ে পাকিস্তানে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজ খেলেছেন তামিম। এক প্রকার বাধ্য হয়েই এবার পাকিস্তানে যেতে হচ্ছে তাকে। খেলাপাগল মুশফিকের বিষয়টি একটু অন্যরকম। পাকিস্তানে খেলতে হবে বলে পিএসএলেও নাম দেননি তিনি। উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যানের পরিবার চায় না পাকিস্তানে গিয়ে কোনো ধরনের খেলায় অংশ নেন তিনি। সে কারণে পাকিস্তান সফর নিয়ে আলোচনার শুরুতেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। এর পরও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন মুশফিকের মতামত জানতে কথা বলেছেন। সেখানেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন মুশফিক।
বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান জানান, মুশফিক অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, পাকিস্তানে যাবে না। চিঠিতে পারিবারিক কারণ দেখিয়েছেন জাতীয় দলের এ সিনিয়র ক্রিকেটার।
ঢাকায় তিন দিন অনুশীলন করে ২২ জানুয়ারি কাতারের দোহা হয়ে পাকিস্তানের লাহোর যাবেন ক্রিকেটাররা। ২৩ জানুয়ারি ভোরে পৌঁছাবে ভেন্যুর শহরে। সন্ধ্যায় গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে একটি প্র্যাকটিস সেশন রাখা হয়েছে। ম্যাচের আগের দিন স্কোয়াডের সবাই প্র্যাকটিসে না গেলেও তামিম যাবেন কন্ডিশনে কিছুটা মানিয়ে নিতে। পরদিন ২৪ জানুয়ারি হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। ২৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় আর ২৭ জানুয়ারি শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল।
পাকিস্তান সফরের জন্য সেরা খেলোয়াড়দের পাওয়া গেলেও কোচিং স্টাফের অনেকেই যাচ্ছেন না। ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক, স্পিন বোলিং কোচ ডেনিয়েল ভেট্টরি, ভিডিও অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাসন চন্দ্রশেখর দলের সঙ্গে পাকিস্তান যাবেন না। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, শ্রীলংকান চম্পকা রমানায়েকে ও সোহেল ইসলাম পাকিস্তান সফর করবেন। ফিজিও জুলিয়ান ক্যালেফাতোও যাচ্ছেন তাদের সঙ্গে। কারণ ফিজিও ছাড়া সফর করা ভাবাই যায় না। কারণ টুকটাক ইনজুরি থাকেই। তামিম ইকবাল যেমন কুঁচকির পুরোনো চোট পরিচর্যা করছেন পুরোপুরি সুস্থ হতে।
বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘তামিমের গ্রোইনে একটা ইনজুরি ছিল এবং সেটা নিয়েই বিপিএলে খেলেছে। স্ক্যান করে তেমন খারাপ কিছু পাইনি। তবে যেন ভালোভাবে যেতে পারে, সেজন্য তার চিকিৎসা চলছে।’ দেবাশীষ আরও জানান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকেও পাকিস্তান সফরের জন্য প্রস্তুত করছেন।
তিনি বলেন, ‘সাইফুদ্দিন বোলিং করছে। ভালোই ফিটব্যাক। নির্বাচকরা কী চিন্তা করবেন, সেটা তাদের ব্যাপার। আমাদের হাতে সময় আছে, আমরা আস্তে আস্তে এগোচ্ছি। তবে আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই।’ যদিও ফিজিও জুলিয়ান ক্যালেফাতো বলেছেন, জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য প্রস্তুত করছেন সাইফুদ্দিনকে।