Sunday, August 23

পাটগ্রামে মাদ্রাসা সুপারের অপসারনের দাবীতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

0

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় বাউরা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মতলুবর রহমান বিএসসির অপসরণের দাবিতে ক্লাস বর্জন করেছে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তবে এ ব্যপারে যেন কারো নেই মাথা ব্যাথা। ফলে অত্র মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট ও গুণগত শিক্ষার পরিবেশ ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের।

গত শনিবার (২৪ আগস্ট) থেকে টানা ৫দিন ধরে অত্র মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ভারপ্রাপ্ত সুপারের অপসারণ দাবী করছেন।

জানা গেছে, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাউরা দাখিল মাদ্রাসা। বর্তমানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে এগার’শ। কিন্তু মাদ্রাসার সুপার ফজলুল হক ও ভারপ্রাপ্ত সুপার মতলুবর রহমান বিএসসি’র প্রকাশ্য দ্বন্ধ, সীমাহীন দুর্নীতি, পিয়ন নিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১৪ মাস আগে মাদ্রাসার সুপার ফজলুল হককে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু তালেব নিয়োগ বানিজ্যের এক মামলায় জেলহাজতে প্রেরন করে, জেষ্ঠ্য শিক্ষকদের বাদ দিয়ে মতলুবর রহমান বিএসসিকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন এ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রুপ নেয়।

অত্র মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সেলিম ইসলাম, ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ওপেল হোসেন ও ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাজ উদ্দিন জানায়, অত্র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মতলুবর রহমান বিএসসিকে অপসরণ করে পুনরায় সুপার ফজলুর হককে দায়িত্ব না দেয়া পর্যন্ত আমাদের ক্লাস বর্জন করার আন্দোলন চলবে।

অপরদিকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু তালেব ও ভারপ্রাপ্ত সুপার মতলুবরকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ১২ সমস্য বিশিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির ৮জন সদস্য মাদ্রাসার এক কক্ষে জরুরী বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি আলহাজ্ব মাহাবুব হোসেন বসুনিয়া। সভায় দাতা সদস্য আবু সাঈদ হামিদুজ্জামান, অভিভাবক সদস্য আঃ খালেক, নূরল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান, শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য মোজাম্মেল হোসেন , আঃ করিম, বিদ্যুৎসাহী সদস্য সফিয়ার রহমান, শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য ইকরামা খাতুন ও সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্য সামিনা খাতুন অংশ নেয়।

উক্ত সভায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু তালেবের প্রতি অনাস্থা আনা হয়। একই সাথে জৈষ্ঠ্যতা অমান্য করে বিধি বর্হিভূতভাবে সভাপতির অনুগত বিএসসি শিক্ষক তবলুবর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দিয়ে মাদ্রাসার শৃংঙ্খলা ভঙ্গ, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট ও অর্থ আত্মৎসাতের পথ তৈরি করার উপায় বের করায় ওই সভায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

নিয়োগ বানিজ্যে ফেঁসে সাময়িক বরখাস্ত মাদ্রাসার সুপার ফজলুল হক বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু তালেব নিজ স্বার্থের জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। অথচ তিনি ও ভারপ্রাপ্ত সুপার মতলুবর রহমান মিলে পিয়ন নিয়োগের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যেটা আজ দিনের আলোর মত পরিস্কার। ম্যানেজিং কমিটির সংখ্যা গরিষ্ট সদস্যরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের হাত থেকে রক্ষা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আমাকে পুনরায় সুপারের পদে বহাল রাখার জন্য শিক্ষাবোর্ড বরাবরে আবেদন করেছেন।

অত্র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মতলুবর রহমান বিএসসি জানান, সুপারের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও গুণগত শিক্ষার দিকে মনোযোগী হই। কিন্তু একটি বিরোধী পক্ষ নিজের স্বার্থে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাদ্রাসার ক্লাস বর্জন করে সে পরিবেশ বিনষ্ট করছেন।

পাটগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কর্ন্দপ নারায়ন রায় বলেন, হাতীবান্ধা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করে আসছি। গত বৃহস্পতিবার থেকে পাটগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। বাউরা দাখিল মাদ্রাসার ক্লাস বর্জনের বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.