Thursday, September 17

পাটগ্রাম সীমান্তে অবাধে ঢুকছে ভারতীয় গরু, হতাশ খামারীরা

0

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সীমান্ত দিয়ে আবারও বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে ভারতীয় গরু। বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর সিন্ডিকেটের সমঝোতার ভিত্তিতে আবারও প্রতি রাতে শত শত ভারতীয় গরু সীমান্ত পারি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আগে ট্রাকের মাধম্যে করিডোর পার করলেও এখন কৌশল পরিবর্তন করে গরুর পা বেঁেধ হাইস মাইক্রোবাসের ভিতরে ঢুকিয়ে দহগ্রাম করিডোর পার করছে। এই গরুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি বিশাল সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন রাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিজিবি-পুলিশসহ প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার মাঝে ভাগাভাগি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এ সিন্ডিকেটের আধিপত্য নিয়ে দ্ব›েদ্বর কারণে বেশ কিছু দিন ভারতীয় গরুর প্রবেশ বন্ধ ছিলো। গত বুধবার রাতে সিন্ডিকেটের সমঝোতা হওয়ায় আবারও ভারতীয় গরু আসতে শুরু করায় বাংলাদেশের হাট গুলোতে গরুর দাম কমতে শুরু করেছে। ভারতীয় গরুর কারণে ভালো দাম পাচ্ছে না দেশীয় স্থানীয় গরু খামারিরা। দেশীয় খামার গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমান গরু মজুত থাকলে ভালো দাম না থাকায় তা বিক্রি করতে পাচ্ছে না খামারীরা।

জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা ছিটমহল দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশের গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমঝোতায় দীর্ঘদিন ধরে গরুর ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। চোরাই ভাবে আসা প্রতিটি গরু ৫ শত টাকা মূল্যে নিলামের কাগজ সংগ্রহ করে বৈধতা পায়। যাকে গরু করিডোর বলে। কিন্ত বর্তমানে করিডোর বন্ধ থাকায় ভারতীয় গরু ব্যবসাকে নিয়ে গড়ে উঠে একটি বিশাল সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা সীমান্ত গুলো দিয়ে প্রতিদিন শত শত ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ফলে দেশীয় গরু খামারীদের অভিযোগ, ভারতীয় গরুর কারণে নিজেদের পালিত গরু বিক্রি করতে পারছেন না তারা। এতে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ দিকে এক জোড়া ভারতীয় গরু বাংলাদেশের হাটে বিক্রি করে সন্ধ্যায় গরু ব্যবসায়ীদের ওই সিন্ডিকেটকে দিতে হয় ২৫ হাজার টাকা। প্রতিদিন ওই সিন্ডিকেটের আয় লক্ষ লক্ষ টাকা। ওই টাকার ভাগ রাতেই লাইনম্যান রিমন মইনুলের মাধ্যমে চলে যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিজিবি-পুলিশসহ প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার কাছে। এ ভাগ নিয়ে বেশ কিছু দিন আগে বর্তমান দহগ্রাম ইউ-পি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ও প্রাক্তন ইউ-পি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের সমর্থকদের মাঝে দ্ব›দ্ব দেখা দিলে ভারতীয় গরুর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। গত বুধবার রাতে ভারতীয় গরু ব্যবসা নিয়ে এ দ্ব›দ্ব নিরসনে ওই সিন্ডিকেটের সমঝোতা বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে সমঝোতা আসলে গত ৪ দিন ধরে আবারও ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ভারতীয় গরু প্রবেশের ফলে তারা নিজের পালিত গরু বিক্রি করতে পারছে না। এ ছাড়া ভারতীয় গরু প্রবেশের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছে দেশীয় গরু খামার মালিকরা।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল হোসেনসহ একটি সিন্ডিকেট ভারতীয় গরুর ব্যবসা করতে তৎপর হয়েছে উঠেছে। শুনেছি বুধবার রাতে পানবাড়ী এলাকায় ওই সিন্ডিকেটের একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বর্তমান চেয়ারম্যানও উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান চেয়ারম্যানের সাথে আমার দ্ব›দ্ব নয়, আমি আওয়ামীলীগের দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা এলাকায় নিরাপত্তার কথা ভেবে অবৈধ ভারতীয় গরুর ব্যবসার বিরোধীতা করছি।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন গরু ব্যবসায়ীদের ওই সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বর্তমানে ভারতীয় গরু আসছে না। গরু ব্যবসা নিয়ে সাবেক ইউ-পি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের সাথে আমার দ্ব›েদ্বর যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা সঠিক নয়।

পাটগ্রাম উপজেলার পানবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ সুবেদার সোহেল হোসেন জানান, করিডোর বন্ধ থাকায় দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে এখন ভারতীয় গরু আসছে না। বিএসএফ ও বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে গরু পারাপারের কোনো সুযোগ নেই।

পাটগ্রাম থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে আপাতত ভারতীয় গরু আসছে না। কেউ যদি ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ নষ্ট করতে চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.