আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতাল এলাকায় ঘরের সেলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে বাসন্তি (৩৫) নামে দুই সন্তানের এক জননীর রহস্য জনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
৮ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার রাজাবাসরের ল্যাম্ব হাসপাতাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, দীর্ঘদিন পূর্বে চিলাহাটির গসাইগঞ্জ এলাকার মনোরঞ্জনের সাথে দিনাজপুর পার্বতীপুরের উত্তর সালন্দার এলাকার লীলু ও নীরু বালার মেয়ে বাসন্তির বিয়ে হয়। বর্তমান তাদের দুই সন্তান মিঠুন ও অর্জুন। মিঠুন দশম শ্রেনী এবং অর্জুন পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র। বিয়ের কিছুদিন পরেই স্বামীর সাথে দুই সন্তানের জননীর মত বিভেদের ফলে বাসন্তি বাবার বাড়িতে চলে আসে। দীর্ঘ ২বছর থেকে সে পার্বতীপুর উপজেলার ল্যাম্ব হাসপাতালের ম্যডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ডাঃ নিতাই চন্দ্রের বাড়িতে কাজ করে আসছে। গত বুধবার সে তার বাবার বাড়ি থেকে ফিরে গতকাল রাতে খাওয়ার পর তার ঘরে ঘুমোতে গেলে সকালে তাকে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলে থাকতে দেখে। পরে পার্বতীপুর থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে লাশ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে ডাঃ নিতাই চন্দ্র বলেন, সে ২বছর থেকে কাজের মেয়ে হিসেবে আমার বাসায় আছে কিন্তু আমি নিজের বোনের মতো তাকে দেখি। গত বুধবার বাবার বাড়িতে গিয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সে আমার এখানে এসেছে। রাতে আমার স্ত্রীর সাথে টিভি দেখছে, খাওয়ার পর সে তার ঘরে ঘুমোতে যায়। কিন্তু পরে আজ সকালে তাকে ডাকতে গেলে কোন প্রকার সাড়া না পাওয়ায় দরজা ফুটো করে দেখি সে ঝুলানো অবস্থায় আছে। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে। সে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কি ঝগড়া করে আসছে এটাই হলো কথা।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে বাসন্তির ভাই সুবল চন্দ্র বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আমার বোন এই ডাক্তারের বাড়িতে কাজ করতো। তার স্বামীর সাথে কি যে হয়েছিল তা জানা নেই। এখানে ২বছর থেকে আছে। আমরা আমার বোনকে চাইলে ডাক্তার বলেন না বাসন্তি এখানে থাকবে। তদন্তের মাধ্যমে আমরা এটির সঠিক বিচার চাই।
নিহতের মা নীরু বালা বলেন, ওর মাথায় সমস্যা ছিলো। তার স্বামীর বাড়ি থেকে বার বার আমার বাড়িতে চলে আসতো। আমরা তাকে স্বামীর বাড়িতে আবার দিয়ে আসতাম। তার মায়ের দাবী মাথায় সম্যার কারণে সে স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসে এমন কথার ভিত্তিতে অন্য কোথায় না গিয়ে এখানে আসার করণ জানতে চাইলে তিনি কোন প্রকার সদোত্তর দিতে পারেন নি।
ঘটনা সমন্ধে মনমথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজগার আলী বলেন, আমরা এসে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে ছিটকিনি দিয়ে বন্ধ করা অবস্থায় ছিলো। দরজা ভেঙ্গে তার ওড়না পেচানো ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই। পরে তার বোনসহ অন্যান্যদের সহায়তায় ওড়না কেটে তাকে নামানো হয়।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর মডেল থানার এস আই ও ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনা স্থলে এসে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। পরে দরজা ভেঙ্গে তার ওড়না পেচানো ঝুলন্ত লাশটি কয়েকজন মহিলার সহায়তায় নামানো হয়েছে। পরে দোখ সে আসলেই মৃত্যু বরণ করেছে। ময়না তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।