Sunday, July 26

পাহাড়ীদের জুমের ফল ঠান্ডা আলু

0
বান্দরবান প্রতিনিধি, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়ীদের আদি পেশা জুম চাষ। দুর্গম অঞ্চলে এই জনগোষ্ঠীরা যুগ যুগ ধরে জুম চাষাবাদে মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। সেই জমিতে উৎপাদিত বিভিন্ন রকমারি ফল উদ্ভব হলেও কিছু ফলের মধ্যে রয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা।  এমনই একটি ফল, ঠান্ডা আলু। স্বাদে মিষ্টি, গায়ে সাদা বাদামি বর্ণের লম্বা ও গোলাকৃতি এই ফলটির চামড়া পাতলা। খোসা ছাড়িয়ে কাঁচা এবং রান্না করেও খাওয়া যায়। মারমাদের ভাষায় এই ফলটির নাম “রোয়াই উ”। আর বাংলায় “ঠান্ডা আলু” নামে পরিচিত। যেটিকে ইংরেজিতে ম্যাক্সিকান ইয়াম বা ম্যাক্সিকান টার্নিপ বলা হয়।
জানা যায়, একমাত্র পাহাড়ের পাদদেশে জুম চাষাবাদের সময় এই আলু চাষ করে থাকেন। জুমে নতুন ধানের বীজ রোপন করার সময় অন্যান্য সবজি জাতীয়  বীজের সাথে ঠান্ডা আলু বীজ বপন করা হয়। ধান উঠে গেলে আলুর গাছগুলো বাড়তে থাকে। নিয়ম অনুসারে এপ্রিল মাস হতে জুম চাষের প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু হয়। সেক্ষেত্রে ডিসেম্বর হতে ফেব্রুয়ারী এই তিন মাস পর্যন্ত সাধারণত ঠান্ডা আলুর মৌসুম।সরেজমিনে বান্দরবান মারমা বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুর্গম পাহাড়ি জুম চাষীরা তাদের উৎপাদিত ফল হিসেবে ঠান্ডা আলু বিক্রি করছেন। এর মধ্যে অনেকে তাদের কাছ থেকে পাইকারি দরে ঠান্ডা আলু কিনে নিচ্ছেন। তাছাড়া এই জনপদে চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন প্রান্তে পরিবহনযোগে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
বাজারে বিক্রি করতে আসা লালু তংঞ্চগ্যা বলেন, এই মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জুমের ধানের পাশাপাশি ঠান্ডা আলুর ফলনও ভালো হয়েছে। জুম থেকে তুলে বিক্রি করতে এসেছি হাট বাজারে। ভালো দাম পাচ্ছি।
আরেক বিক্রেতা মেয়ইনচিং মারমা বলেন, প্রতি কেজি আঁটি বেঁধে বিক্রি করছি ৯০-১০০ টাকা দরে। নিজের বাগান থেকে আলু সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য বাজারে রাস্তার ধারে বসেছি। পরিশ্রম আর যাতায়াত খরচ হিসাব করলে মোটামুটি দাম পাচ্ছি। পাশাপাশি পাইকারীরাও এখান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
মারমা বাজারে এক ক্রেতা মংমংসিং মারমা জানান, প্রতি শীত মৌসুমে পার্বত্য অঞ্চলের বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঠান্ডা আলুর বেশ জনপ্রিয়তা আছে। জুমে উৎপাদিত ঠান্ডা আলুর স্বাদ এবং কদর দুটোই এ জনপদে অনেক বেশি।
এ ব্যাপারে বান্দরবান কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানিয়েছেন, পাহাড়ে জুমিয়াদের জুম চাষের সময় ধান ও বিভিন্ন রকমারি ফলের পাশাপাশি ঠান্ডা আলুর বীজ বপন করেন। ওই জমিতে ধান উঠে গেলে ঠান্ডা আলুর গাছগুলো আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। এক পর্যায়ে আলু বড় হলে গাছের গোড়ার মাটি ফেটে যায়। তখন ঠান্ডা আলু সংগ্রহ করে থাকেন। তবে মাঝারি ঢালু পাহাড়ি জমিতে ঠান্ডা আলুর ফলন ভালো হয়।
জুমের মাটিতে ঠান্ডা আলু চাষের জন্য কৃষি বিভাগ হতেই সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.