কিকিউ মার্মা, বান্দরবান : চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানে জুম পাহাড়ের ঢালুতে মিষ্টি কুমড়ার চাষে সফলতা পেয়েছেন জুম চাষীরা। এই জুম পাহাড়ে উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া নানাবিধ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ আর খেতে সুস্বাদু, তাই এই সবজির চাহিদাও বাড়ছে বহুগুণে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় বলে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে বছর জুড়ে জুমের মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে চাষীরা অবগত না থাকায় মাঝপথ থেকে সুযোগ করে নিচ্ছে মধ্যস্থ ভোগীরা। ফলে উৎপাদিত ফসলের নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চাষীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বান্দরবানের পাহাড়ের বিভিন্ন জুম ক্ষেত থেকে কৃষকরা মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহ করে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে জমিয়ে রাখছে বিক্রির আশায়। আর আড়তদার এসে চাষীদের কাছ থেকে মিষ্টি কুমড়া ক্রয় করে গাড়ি যোগে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্র মতে, বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, সদর’সহ জেলার সাত উপজেলায় চলতি বছর মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে ৫৬০ হেক্টর জমিতে। যারমধ্যে পাহাড়ের ঢালুতে জুম পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়া চাষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এ বছর মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় দশ হাজার মেট্টিকটন। গতবারের তুলনায় এ বছর চাষ বেড়েছে ১০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের পরিমাণ একশ মেট্টিকটন বৃদ্ধি পেয়েছে।
বান্দরবান থানচি সড়কে ১২ মাইল এলাকার পারিং ম্রো বলেন, ‘আমি এই বছরও জুমের পাশাপাশি পাহাড়ের সাত একর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছি। প্রচুর মিষ্টি কুমড়ার ফলনও হয়েছে। গত বছরে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়ার মূল্য ৬ থেকে ৮টাকার মধ্যে ছিল। কিন্তু এই বছর প্রতি কেজি ৯ থেকে ১০ টাকা বিক্রি করছি।’
আরেক চাষী মেনরুম ম্রো বলেন, ‘এই বছরে সময় মত বৃষ্টির হওয়ার কারণে জুমের ধানও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ার ফলনও ভালো হয়েছে আমার জমিতে। গত বছরে প্রতি মণ ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। তবে এই বছর প্রতি মণ ৪০০-৫০০ টাকা করে বিক্রি করতে পারছি। এতে আমার পরিশ্রমের মূল্য কিছুটা হলেও উঠেছে।’
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. একেএম নাজমুল হক বলেন, ‘আদিকাল থেকে জুম চাষ করে আসছে পাহাড়ীরা। সেই পাহাড়ের ঢালুতে জুমের ধান চাষের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদও বাড়ছে। এই অঞ্চলে দুটি মৌসুমেই এখানে মিষ্টি কুমড়া উৎপাদিত হচ্ছে। তাই বলতে গেলে সারাবছরই এ অঞ্চলের বাজারে মিষ্টি কুমড়া পাওয়া যায়।’
চাষীদের উৎপাদিত ফসল তাদের নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় মধ্যস্বত্ব ভোগীদের কারণে নায্যমূল্য পাচ্ছেনা চাষীরা অভিযোগটি একেবারে মিথ্যা নয়। তবে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চাষীরা উৎপাদিত সবজি সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে পারছেনা, যে কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য চাষীদেরকে কৃষক সংগঠন গড়ে তুলে নিজেদের পণ্য বাজারজাতকরণ করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষি বিভাগ থেকে।’