কিকিউ মারমা, বান্দরবান প্রতিনিধি: পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাহাড়ে পাহাড়ে শোভা পাচ্ছে সোনালী ধান। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছরের আবহাওয়া অনুকূল পরিবেশ থাকায় জুমের ফসল ভাল হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
আদিকাল থেকে পাহাড়ের ঢালে বিশেষ পদ্ধতিতে এই জুম চাষ করে থাকেন জুমচাষীরা(জুমিয়ারা)। জমিতে ধানের চারা রোপণের পাশাপাশি লাগানো হয় ভুট্টা,ধানির মরিচ,বেগুন,পাহাড়ি আলু,কাঁকরোল,মারফা,ঢেড়ঁশ,কুমড়া, টকপাতা,ফুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির চারা। আর ভাদ্র বা আশ্বিন মাস আসলেই সেই ফসল উঠাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে জুমিয়ারা। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারায় খুশিতে ভরপুর জুমিয়ারা। বান্দরবান রোয়াংছড়ি উপজেলা থানচি আঁকাবাঁকা সড়কের দু’পাশের পাহাড়ে এখন শুধু পাকা ধান। স্ত্রী পরিবার-পরিজন নিয়ে জুমিয়া পরিবারগুলো নেমে পড়েছে জুমের ধান কাটতে।
কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্যমতে,চলতি বছর জেলায় প্রায় ৮ হাজার ৯৮৮ হেক্টর জমিতে জুমচাষ হয়েছে। গত বছর জুমচাষ হয়েছিল ৮ হাজার ৯৬৭ হেক্টর জমিতে। এছাড়া ২০১৬ সালে ৮ হাজার ৯৩৭ হেক্টর জমিতে এবং ২০১৫ সালে জুমচাষ হয়েছিল ৯ হাজার ৫০ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বান্দরবান জেলায় জুমচাষ বেড়েছে ২১ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১২ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন।
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা যামিনী পাড়ার চাষি মেনসিন ম্রো বলেন, এবছর জুমের মরিচ, মিষ্টিকুমড়া, মারফার চাষ করা হয়েছে। এগুলো বিক্রি করে সংসার ভালভাবে চলছে। এবারে জুমের ফসল ভাল হয়েছে। আগামী বছর আবারও করব।বান্দরবানের যামিনী পাড়ার আরেক চাষি মেনরুম ম্রো বলেন, ২০ বিঘা জমিতে জুম চাষ করেছি। প্রতি ২ বিঘা জমিতে ১২০ আড়ি ধান পাব। গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন ভাল হয়েছে।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, জুম চাষ একটি আদি পেশা। যেখানে যোগযোগ ব্যবস্থা ভালো নয় সেসব জায়গায় এখনও জুম চাষ করা হয়। আর এলাকাগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তার একটি বড় অংশ হলো জুম চাষ। পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে এবছর জুমের ফলন অন্যান্য বছরের চেয়ে একটু বেশি আসবে বলে আশা করছি। জুম চাষ যেন ভালো হয় তাই জুম চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।