Tuesday, August 25

পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাতের প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর

0

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। মঞ্জুরুল ইসলাম ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূরল ইসলামের পুত্র।

গত বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে পিতা-পুত্রের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের প্রমান পাওয়া গেছে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ হোসাইন।

তবে ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌস আহেম্মদ বলেন, মঞ্জুরুল ইসলামের পিতা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হওয়ায় আমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে বেতন দিয়ে আসছি।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ হোসাইন বলেন, ওই মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম ২০০৯ সালের ৯ জুন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে মাদ্রাসায় যোগদান করেন। ২০১০ সালে হাতীবান্ধা সরকারী আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজেও প্রভাষক পদে যোগদান করেন। তিনি দুই প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন-সম্মানী উত্তোলন করে আসছেন। তিনি ২০১৮ সালের ১ আগষ্ট ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক পদ থকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু পদত্যাগ করলেও ওই মাদ্রাসা থেকে গত ১৬ মাস ধরে মাসিক প্রায় ৩৭ হাজার টাকা করে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করে আসছেন মঞ্জুরুল ইসলাম।

তার বাবা মাওলানা নূরল ইসলাম ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হওয়ায় পিতা-পুত্র দুই জনের যোগসাজে প্রতি মাসে প্রায় ৩৭ হাজার টাকা করে চাকুরী বিধি লঙ্ঘন করে সরকারী টাকা উত্তোলন পুর্বক আত্মসাত করে আসছেন। অধ্যক্ষ নুর ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌস আহম্মেদও ওই অধ্যাপকের অবৈধ ভাবে টাকা উত্তোলনে সহযোগিতা করেন। এমন একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে আসে। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে প্রতিবেদন চেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে পত্র দেয়। ওই পত্রের আলোকে তদন্ত করে সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যাতা পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমি ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক পদ থকে পদত্যাগ করেছি। ওই দিনেই আবার পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহারের জন্য আবেদনও করেছি। আমার বাবা অসুস্থ বিষয়টি একটু মানবিক বিবেচনায় দেখা উচিত। তবে অসুস্থ থাকায় ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূরল ইসলামের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌস আহেম্মদ বলেন, সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলামের পিতা নুর ইসলাম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তিনি আগে থেকেই মঞ্জুরুল ইসলামকে বেতন দিয়ে আসছেন। পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমিও বেতন দিয়ে আসছি। তবে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওয়াছেক খান বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

হাতীবান্ধা সরকারী আলিমুদ্দিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সামসুল আলম বলেন, মঞ্জুরুল ইসলাম দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-সম্মানী তুলছেন। বিষয়টি জানার পর গত ৬ মাস আগেই আমি তার বেতন বন্ধ করে দিয়েছি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.