মোঃ আয়ুব হোসেন পক্ষী, বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালী গ্রামের বুদো সরদারের ছেলে বিশিষ্ট খামার ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন সরদারের বিরুদ্ধে ঢালাও অপসাংবাদিকতা ! প্রশ্নবিদ্ধ এ দায় কার? একের পর এক সাংবাদিকতার নামে বেনাপোল সহ শার্শা উপজেলায় অপরাধ করে যাচ্ছে এক শ্রেণির সাংবাদিক নামধারী অসাধু লোকজন। দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে এরা যেমন পারছে প্রমাণ ছাড়াই নিজেদের মনগড়া ভাবে কিছু ব্যবসায়ী কিছু সংস্থা, কিছু দপ্তর, কিছু সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে লিখে দিচ্ছে।এই সাংবাদিকরা আবার অনেকেই কোন প্রেসক্লাবের সাথে জড়িত নয়।
বিগত কয়েকদিন মাস ধরে থেমে থেমে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়,অনলাইন পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বিভিন্ন সময়ে পুটখালী গ্রামের বিশিষ্ট খামার ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ কর্মী নাসির উদ্দিন সরদারের নামে কোন প্রমাণ ছাড়াই অপসাংবাদিকতার জোরে লিখে দিল সে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানের সাথে জড়িত।
সরেজমিনে আমরা স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অনলাইনে লেখার সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে দেখি এরকম কোন ঘটনা বা ব্যবসার সাথে নাসির উদ্দিন জড়িত নেই ।
একশ্রেণীর এসএসসি পাস না করা অথবা এইচএসসি পাস না করা সাংবাদিক নামধারী নাসির উদ্দিন সরদারের নামে রিপোর্ট করে। এই মিথ্যা রিপোর্ট এতটাই মনগড়া নাসিরের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়নি। সম্পূর্ণভাবে রাগের বশবর্তী হয়ে এই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও অনলাইন প্রত্রিকায় কোন প্রমাণ ছাড়াই নিউজটি প্রকাশ করেছে। আরাও তদন্ত করে দেখা যায়,এমনকি সাধারণ জনগণের কোনো বক্তব্য, নাম, প্রচার করা হয়নি প্রায় রিপোর্ট গুলিতে ।
পুটখালী গ্রামের নাসির উদ্দিন সরদারের নামে যদি এভাবে ঢালাওভাবে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করা হয় তাহলে এই বৃহৎ খামারি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে তখন এই অ লের যুবকরা বেকার হয়ে যাবে। যশোর জেলায় অন্যান্য এলাকাগুলোর তুলনায় বেনাপোল ভৌগলিক পরিধি তুলনামূলক বৃহত্তম স্থলবন্দর হওয়ায় এ অ লের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে সাথে পেশাদার সাংবাদিকদের সংখ্যাও বেশি; এটা স্বাভাবিক। কিন্তু শার্শা উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে এমন বেশ কিছু লোক রয়েছে, যারা নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে স¤প্রতি সময়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ চরম লজ্জাজনক সত্য এই যে, এদের আবার অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আছে কিনা, তাতেও সন্দেহ রয়েছে। একটি প্রতিবেদন কিভাবে তৈরি করতে হয় এসবের কিছুই জানেনা তারা । এমনকি এদের পাঠানো প্রতিবেদনের মূল খবর থেকে শুরু করে নিউজ টাইটেল-এর বানান পর্যন্ত ভুল। এতদাসত্তে¡ও কিছু কিছু গণমাধ্যমের সম্পাদকগণ একদর দেওয়া যা ইচ্ছা তাই ছাপিয়ে যাচ্ছেন অসতর্কতাবশতঃ।
আর যদি এর আগের কিছু বলতে চাই তাহলে প্রশ্ন আসে, আসলে এসব যোগ্যতাহীন লোকগুলো নির্দিষ্ট গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র পাচ্ছেই বা কিভাবে? উত্তরটা হয়তো অনেকেরই জানা আছে। কেননা, টাকার কাছে সাংবাদিক পরিচয়পত্র বর্তমানে বড়ই তুচ্ছ!
বর্তমান সময়ে যেসব অপরাধীরা বিভিন্ন দোষে যেসব অপরাধীরা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছে এরা কেউ কেউ সাংবাদিক পরিচয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, কেউ কেউ নিয়মিত দোকানপাট, হকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপমহলের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে ,আবার কেউ কেউ নিজেদের অপকৌশল ঢাকতেই নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সবচেয়ে লজ্জাজনক হচ্ছে, শার্শা উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে একশ্রেণি দেহব্যবসা, চাঁদাবাজি ,মাদকসহ বড় বড় সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে দিনের পর দিন। আর শেষ পর্যন্ত যখন এরা ধরা খাচ্ছে, ঠিক তখনই বাঁচার আশায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে আবির্ভূত করছে। ফলে দিন দিন বেনাপোলে ‘সাংবাদিক’ শব্দটি সর্বস্তরের মানুষের কাছে আস্থার জায়গা হারিয়ে ‘ভুয়া’ তে রূপ নিতে চলেছে। এরকম পরিস্থিতিতে সাংবাদিক শব্দটির সাথে ‘আসল’ না ‘ভুয়া’ প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণ মানুষের মনে সেটিরও উদগ্রীব হচ্ছে। যখন অসাধু ও নীচ প্রকৃতির মানুষেরা সাংবাদিকতার পরিচয়ে শার্শা উপজেলা সহ বেনাপোলের বিভিন্নস্থানে পরিচালিত ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানসমূহের নামে ভিত্তিহীন, মিথ্যা তথ্য প্রচার করে গণমানুষের কাছে প্রকৃত সাংবাদিকদের স্থান একের পর এক মলিন করে চলছে! তখন এই অ লেরই প্রকৃত তথা পেশাদার সাংবাদিকদের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? বেনাপোলের সচেতন সাংবাদিক মহলের কাছে প্রশ্নটি রইল।
সবকিছু মিলিয়ে একথা সত্য যে, শার্শা উপজেলাসহ বেনাপোলে যেসব অসাধু-চরিত্রহীন লোকেরা সাংবাদিক পরিচয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে- বর্তমানে এরা খুব দাপটের সাথেই চলছে। কেননা দূর্নীতিগ্রস্থ অপশক্তির সাথে এসব কথিত সাংবাদিকদের বেশ ভালো সম্পর্ক বিদ্যমান। ফলে এদের বিরুদ্ধে বেনাপোলের পেশাদার সাংবাদিকেরা কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ! এমনকি এসব কথিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করলে, প্রকৃত সাংবাদিকদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। একমাত্র কারণ, পেশাদার সাংবাদিকদের কোন ধরনের শক্ত ইউনিট এখন পর্যন্তু বেনাপোলে গড়ে ওঠেনি। ফলে কতিপয় ভুঁইফোড় সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তিরা সাংবাদিক পরিচয়ে লাগামহীন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে শার্শা উপজেলা ও স্থলবন্দর বেনাপোলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের স্থান স্থান দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
সীমান্ত প্রেসক্লাব বেনাপোলের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম শাহিন, বলেন, একটি কুচক্রী সাংবাদিক মহল যাদের বেনাপোল এ কোন ভিত্তি নেই, তারা বিভিন্ন সময়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারী সংস্থা ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ,ভিত্তিহীন ,বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে। এরা সবাই বিভিন্ন অপকর্ম ও কুকর্মের সাথে জড়িত। এসব অপকর্ম- কুকর্মকারী সকল সাংবাদিক নামধারী সদস্যদের কোন প্রেসক্লাবের ঠাঁই হয়নি। আপনাদের মাধ্যমে আমরা সকল সম্পাদক মহোদয়কে আহŸান জানাতে চাই, শার্শা উপজেলা তথা বেনাপোল অ ল থেকে সাংবাদিকতা পেশার জন্য আপনাদের নিকট যারা বায়োডাটা ও বিভিন্ন সুপারিশ জমা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রেসক্লাবে খোঁজ খবর নিয়ে এবং প্রেসক্লাব থেকে প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে নিয়োগ দিবেন। আরো অনুরোধ করা হল প্রেসক্লাবের সদস্য ছাড়া কাউকে নিয়োগ দিবেন না। সাথে সাথে এসব অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে স্থানীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহŸান জানানো হয় ,অথবা কোনো সাংবাদিককে নিয়ে সন্দেহ প্রবন হলে সংশ্লিষ্ট প্রেসক্লাবে যোগাযোগ করার বা তার সম্পর্কে খোঁজ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অপরদিকে মানুষের ইচ্ছা, চিন্তা, স-ুবুদ্ধি ও পরিশ্রম ব্যায় করলে যে কোন স্বপ্ন বাস্তাবায়ন করা সম্ভব। বিধাতার দেওয়া মেধাকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীথে নিজেকে একজন যোগ্য মানুষ হিসাবেও গড়ে তোলা সম্ভব। সেই মেধা শক্তি কাজে লাগিয়ে আজ দেশের দক্ষিন পশ্চিম সীমান্তে যে যুবক শুধু জিরো থেকে হিরো হয়ে শুধু বাংলাদেশেই সমাদৃত নয় পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতেও সমাদৃত । তার নাম নাসির উদ্দিন।
যশোর জেলার বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী সীমান্তে নাসির উদ্দিনের (৩৪) বাড়ি। অভাব অনটন এর সাথে যুদ্ধ করতে করতে ভেঙ্গে গিয়েছিল তার স্বপ্ন কিন্ত হারার আগে হেরে যাননি তিনি। অভাব কষ্টের মধ্যে হয়নি লেখা পড়া। আতœপ্রত্যয়ী এ যুবক নিজ মেধা এবং বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে গরুর খামার করে আজ এক স্বাবলম্বী যুবক। যার বার্ষিক আয় প্রায় দেড় কোটি টাকা।
দেশের দক্ষিন পশ্চিমা লের সীমান্ত শহর বেনাপোল পোর্ট থানার ভারত সীমান্তবর্তী পুটখালী গ্রামের বুদো সরদারের ছেলে নাসির উদ্দিন। অভাব অনটনের সংসার লেখা পড়া হলো না। বাবার সংসারের হাল ধরতে হলো তাকে। এই তো ২০০৪ সালের কথা। শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে জীবনের সাথে সংগ্রাম করে ভারত থেকে মাহজনদের গরু আনার কাজে রাখাল হিসাবে যোগ দেয়। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের অত্যাচার ,নির্যাতন এমনকি তখন গুলি করেও গরু আনা রাখালদের হত্যা করার মত সকল ঘটনা উপেক্ষা করে এ তরুন ভারত সীমান্ত থেকে গরু এনে বাংলাদেশের পুটখালী গরুর কড়িডোরে ( খাটাল) নিয়ে আসত ভারতীয় গরু। এরপর সে ২০০৮ সালে চিন্তা করল আর রাখাল হিসাবে কাজ করবে না। মাত্র দুই লক্ষ টাকা নিয়ে কয়েকটি গরু কিনে নিজে বাড়িতে লালন পালন শুরু করল। বছর শেষে ভালই মুনাফা অর্জন করল নাসির।
এরপর ধীরে ধীরে সে গরু তার খামারে বাড়াতে থাকল। এভাবেই আজ তার তিনটি খামারে ২৫০ ( দুইশত প াশ) টি গরু, ১৫০ টি ছাগল, ১০৫ টি গাড়ল ৬ টি দুম্বা ও দেশী ও রাজ হাঁসের চাষ হচ্ছে একই খামারে। প্রতিবছর সে কোরবানীর সময় গরু ছাগল ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে। নাসিরের খাটালে সর্বোনি¤œ ১টি গরু দেড় লাখ টাকা থেকে শুরু করে ১৫ লাখ টাকার পর্যন্ত মুল্যের গরু রয়েছে।
কথা হয় নাসির উদ্দিনের সাথেঃ নাসির উদ্দিন বলেন, আমার খামারে আজ ৫০ জন বেকার যুবক কাজ করছে। গরু ছাগল দুম্বা হাঁস মুরগি গাড়ল লালন পালনের জন্য এরা কাজ করে। এদের সন্তানের মত লালন পালন করতে হয়। এদের মাসিক বেতন সর্বন্মিন ১০ হাজার টাকা। আমার খামার থেকে বছর শেষে আমি শ্রমিকের মাসিক বেতন, গরুর খাবার, চিকিৎসা খরছ সহ অন্যান্য খরছ বাদ দিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা উপার্জন করে থাকি। তার খামারে ভারতের হরিনা, নেপালিয়ন,মুন্ডুী, অষ্টমুখি, রিডিং বুল, ব্রাহমান, সিদ্ধি জাতের গরু রয়েছে। অনেক গরু ১৫ থেকে ২০ মন পর্যান্ত মাংশ হবে। ও বার্বারী, বিটান, রাজস্থান, বোয়ের জাতের ছাগল রয়েছে। এ সব ছাগলে প্রায় ১০০ কেজি মাংশ হবে। নাসির বলে তার এ ছাগল কোরবানীর সময় প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হবে। দুম্বা ও ২ থেকে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রী হবে প্রতিটি।
সরজমিনে নাসির উদ্দিনের খাটালে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে প্রতিটি গরুর মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে। রাখালরা তাদের কেউ খাবার দিচ্ছে, কেউ গোছল করাচ্ছে, কেউ গোবর পরিস্কার করছে। এসব গরু ও ছাগল দুম্বাদের ভুসি, মুসুরী ভুসি, ভুট, ধান, ভাত সহ ইত্যাদি ধরনের খাবার দিচ্ছে। ২৪ ঘন্টা অত্যন্ত যতেœ থাকে এসব পশু।
নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিটি গরুতে দিনে ১ কেজি করে মাংশ বৃদ্ধি পায়। আমার তিনটি খামারে উন্নত জাতের ৪০ টি গাভিও রয়েছে। প্রতিটি গাভি থেকে প্রতিদিন ২০ কেজি দুধ উৎপাদন হয়। আমার এখান থেকে প্রতিদিন ৮০০ কেজি দুগ্ধ উৎপাদন হয়। যা বেনাপোল শার্শা নাভারন সহ স্থানীয় বাজারের দুধের চাহিদা মিটাতে সহায়তা করে। আমার ১৫ বিঘা জমিতে কাঁচা ঘাসের চাষ। এখান থেকে যে ঘাষ উৎপাদন হয় তাতে আমার গরুর অন্যন্য খাবারের সাথে কাঁচা ঘাসের চাগিদা মিটে যায়। কাঁচা ঘাস খাওয়ালে রোগ ব্যাধি কম হয়। গরুর গোবর দিয়ে কি করেন, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার খামারের গবর স্থানীয় লোক নিয়ে তাদের জমিতে ব্যবহার করে জৈব সার হিসাবে। আবার অনেকে জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করে।