Monday, August 17

পুলিশের এনকাউন্টারে প্রধান অভিযুক্ত ধর্ষক সাজ্জাদ নিহত

0

সরওয়ার কামাল জামান: কক্সবাজারের চকরিয়ায় সিএনজি চালকদের হাতে ধর্ষণের পর চম্পা (১৮) নামে এক তরুণী নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মুলহোতা পেকুয়া উপজেলার শেখের কিল্লাঘোনা এলাকার আবুল হোসেন পুতুর ছেলে মোঃ সাজ্জাদ আজ ভোর রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) ভোররাতে চকরিয়া উপজেলার মরংঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চকরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি চকরিয়া উপজেলার মরংঘোনা এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে আসা চম্পাকে চলন্ত সিনএনজি থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছিল সাজ্জাদ ও সিএনজি চালক।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল আজম জানান , তরুণী চম্পা হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামী সাজ্জাদ। গত বুধবার (৬ মে) চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়ায় নিজের বাড়িতে আসছিলেন ১৯ বছরের তরুণী চম্পা। রাতে সিএনজি করে আসার পথে সিএনজি চালক ও সাজ্জাদ মিলে তাকে ধর্ষণ করে। পরে সিএনজি থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয় ওই তরুণীকে।

অনেকটা ক্লুহীন এই হত্যার ঘটনার রহস্য একদিনেই উদঘাটন করে কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫। এক অভিযানে একদিনের মাথায় পুরো হত্যাকান্ডটির রহস্য উদঘাটন করে ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত সিএনজি চালক জয়নালকে (১৮) আটক করেছিলো র‌্যাব।

জয়নালের স্বীকারোক্তি মতে র‍্যাব জানতে পারে, সাজ্জাদ নামে অপর একজন যুবক এ ঘটনায় জড়িত। তারা দুইজন মিলে চম্পাকে পেকুয়া-চকরিয়া সড়কের নির্জন ব্রিজ এলাকায় ধর্ষণ করে। এরপর সিএনজিতে তুলে চলন্ত অবস্থায় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি গাড়ির সামনে ছুড়ে মারে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় চম্পা। র‌্যাব অভিযুক্ত সাজ্জাদকে ধরতে বেশ কয়েকবার তার বাড়িতে অভিযান চালায়। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক সনজিত চন্দ্র নাথ জানান, সোমবার (১১ মে) সকালে র‌্যাবের একটি দল সাজ্জাদের চাচাতো ভাই প্রতিবন্ধী নেজাম উদ্দিন ও আবদুর রহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। তারপর থেকে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী সাজ্জাদকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে একইদিন সকাল ১০টার দিকে শেখের কিল্লা ঘোনার একটি বাড়ি থেকে স্থানীয়রা সাজ্জাদকে আটক করে পেকুয়া থানা পুলিশকে সোপর্দ করে।

চকরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, সাজ্জাদকে আটক করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে পেকুয়া থানা পুলিশ। ভোররাতে আটক সাজ্জাদ তার কাছে থাকা অস্ত্রের সন্ধান দেবে বলে পুলিশকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছামাত্র তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে হামলাকারীরা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে সাজ্জাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ওসি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.