মুন্সিগঞ্জে প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুর রহমান গ্রেপ্তারের পর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এসময় ঘটনাস্থল গ্রেনেডসহ আগ্নেয়াস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে জেলার সিরাজদিখান উপজেলার খাসমহল বালুরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় সিরাজদিখান থানার তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বেলাল হোসেন, হাসান সামজারি, এবং কনস্টেবল মোশারফ।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত রোববার পুলিশের কয়েকটি টিম একত্রে অভিযান চালিয়ে গাজীপুর থেকে আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। বাচ্চুকে হত্যার জন্য খাসমহল বালুরচর এলাকায় তিন মাস বাসা ভাড়া নিয়ে আব্দুর রহমান থেকেছিল। তাই সে বাসায় অস্ত্র উদ্ধার ও তল্লাশির জন্য আমাদের টিম আব্দুর রহমানসহ সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানচলাকালে হঠাৎ পুলিশের উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এসময় পুলিশও গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আব্দুর রহমান গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১১ জুন বাচ্চুকে গুলি করে হত্যার ১৩ দিনের মাথায় ২৪ জুন গাজীপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে পরে জেলা পুলিশ সুপার তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের কাকালদিতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ব্লগার, কবি ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু নিহত হন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসে হেলমেট পরা চার দুর্বৃত্ত তাকে দোকান থেকে ডেকে বের করে এনে লোকজনকে সরে যেতে বলেন। এ সময় একটি বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন তারা। এর পর শাহজাহান বাচ্চুকে রাস্তায় এনে তার বুকের ডান পাশে একটি গুলি করেন। বাচ্চুকে ইছাপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু বিশাকা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ও মুন্সিগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ‘আমাদের বিক্রমপুর’ নামের একটি অনিয়মিত সাপ্তাহিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।