একটি শহর গড়তে প্রয়োজন বিশুদ্ধ জলাশয়, খোলা জায়গা, সবুজ এলাকা এবং পরিকল্পিত অবকাঠামো। কিন্তু ঢাকা শহরে এসবের বড় অভাব।তাই ঢাকা বসবাসের অনুপযোগী শহরে পরিণত হচ্ছে। এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার জায়গা চায় নগরবাসী।
মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলন আয়োজিত ‘বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার এসব কথা বলেন।
বাপ্পি সরদার বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বিগত ২০ বছরে ঢাকা শহরে স্থাপত্য নির্মাণ বৃদ্ধি পেলেও কমেছে জলাশয় ও ফাঁকা জায়গা। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সামাজিক সংগঠনের তৎপরতায় শহরের মানুষ সবুজায়নের প্রতি দিনদিন গুরুত্ব দিচ্ছে। সবুজ আন্দোলন তথ্য ও গবেষণা পরিষদের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০০০ সালে থেকে ঢাকা শহরের প্রায় ৭০ ভাগ পাকা ঘরবাড়ি আচ্ছাদিত ছিল। ২০২০ সালের মে মাস পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৮৩ ভাগ ।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে শহরের খালি জায়গা প্রায় ১৫ ভাগ থেকে কমে ৬ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। তবে সবুজায়ন বেড়েছে ৫ ভাগ। সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজধানীর ৩০৫.৮৭১ বর্গ কিলোমিটারের ১৩৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবুজ এলাকা, জলাশয়, খোলা উদ্যান ও স্থাপনা নির্মাণ বিবেচনায় রিমোট সেন্সিং ইমেজ বিশ্লেষণ ও জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সমীক্ষা চালানো হয়।
বাপ্পি সরদার ঢাকা শহরের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় সবুজ আন্দোলনের পক্ষ থেকে বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে সবুজায়ন বৃদ্ধি করতে রেলের পতিত জমি ও রেললাইনের দুই পাশে এবং অনুমোদিত সব আবাসন প্রকল্পে ২৫% বনায়ন নিশ্চিত করা, নদী ও খালের পানিকে দূষণ মুক্ত রাখতে ইটিপি ফর্মুলা শতভাগ নিশ্চিত করা, শহরের সব মার্কেট ও দোকানের সামনে নূন্যতম দুইটি গাছের টব ব্যবহার, ছাদবাগান বৃদ্ধি করা, বায়ু দূষণ সংক্রান্ত আইন-২০১৯-এর কঠোর বাস্তবায়ন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সবুজ আন্দোলনের উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুস বাদল, মহাসচিব মহসিন সিকদার পাভেল, অর্থ-পরিচালক ওমর ফারুক চৌধুরী, পরিচালক ও কার্যনির্বাহী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসিরুল ইসলাম নাসির, সাধারণ সম্পাদক উদয় খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সবুজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তন ও বায়ুদূষণ রোধে গবেষণায় স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, বন সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা তৈরিতে একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার হোসেন সোহেল, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার জয়শ্রী ভাদুড়ী, নাগরিক টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার ফারাহ হোসাইন, সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার কেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী (শাকিল) এবং হোমিওপ্যাথি গবেষণা ও সবুজায়নে ডা. মো. মাহতাব হোসাইন মাজেদ ‘গ্রিনম্যান অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ প্রদান করা হয়।