রিয়াদে বন্ধুরা কারাগারে আটক থাকায় নিহত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি ব্যাপক নিঃসঙ্গতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বাগদত্তা খাদিজা সেনগিজ।
তুরস্কের সম্প্রচার মাধ্যম হাবেরটুরকে প্রথমবারের মতো লাইভ সম্প্রচারে এসে তিনি বলেন, খাশোগি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তা এখনো গৃহীত হয়নি। তিনি ছিলেন সৌদি নাগরিক এবং সম্প্রতি ব্যাপক নিঃসঙ্গতা বোধ করছিলেন।
‘এই নিঃসঙ্গতার কারণে পরিচিত হওয়ার পরপরই তার সঙ্গে একটি আবেগময় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি।’
গত ২ অক্টোবর খাশোগি ইস্তানম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকে নিখোঁজ হওয়ার পর সৌদি আরব প্রথমে তার ব্যাপারে কিছু জানা থাকার কথা অস্বীকার করেছিল।
পরবর্তীতে তারা ওই কনস্যুলেটেই খাশোগি খুন হওয়ার কথা স্বীকার করে এবং ঘুষাঘুষিতে তিনি মারা যান বলে জানায়।
এই ঘটনার পর তা প্রথম প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন খাদিজা সেনগিজ। তিনি বলেন, সৌদি আরবে তার পরিবার সম্পর্কে আমার কাছে খুব বেশি তথ্য ছিল না। তিনি আমাকে বলেছিলেন, রাজনৈতিক কারণে তার আগের বিয়ে ভেঙে গেছে। তিনি খুবই দুঃখিত ও বিষণ্ণ ছিলেন।
‘সৌদি আরবে তার বন্ধুদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা তিনি জানতেন না বলে খাশোগি আক্ষেপ করতেন।’ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কয়েকশ ভিন্ন মতাবলম্বীকে আটক রেখেছেন। যাদের মধ্যে খাশোগির বন্ধুরাও ছিলেন।
খাদিজা বলেন, জামাল খাশোগিকে সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী বলা ঠিক হবে কিনা, তা নিয়ে আমি সন্দিহান। কারণ দেশটি এক ধরনের রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবে অবস্থান করা তার বন্ধুরা লিখতে পারছিলেন না। কাজেই লেখালেখি করাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন খাশোগি।
খাশোগির বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিজ শুক্রবার তুর্কি টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কান্নারত অবস্থা বলেন, সৌদি সরকার খাশোগিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে সামান্যতম ধারণা পেলেও তিনি তাকে ওই কনস্যুলেটে যেতে দিতেন না।
তিনি বলেন, শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত যারাই এ পাশবিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছে তাদের সবার বিচার করে শাস্তি দিতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে খাদিজা আরও বলেন, কোনও সৌদি কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। সৌদি আরবে যদি কখনও খাশোগির লাশ পাওয়া যায় তাহলে তিনি তার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে দেশটি সফরে যাবেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সে সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দেন।