সব জায়গায় দক্ষতার ছাপ রাখতে নারীদের পরিমিতি বোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। পরামর্শ দেন, কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি সংসার সামলানোর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ ও আয়বর্ধক কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের আরও এগিয়ে নিতে কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার।
আজ (৯ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোকেয়া দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
সন্তানদের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে দূরে রাখতে মায়েদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সন্তানদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক রাখতে হবে, যাতে কোনো সুখ, দুঃখের কথা ছেলে-মেয়েরা মায়েদের কাছে বলতে পারে।
নারীদের কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেত্রী ও সংসদ উপনেতা সবাই নারী। অথচ আমেরিকার মতো দেশে এখনো পর্যন্ত কোনো মহিলা প্রেসিডেন্ট হতে পারেনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, মনে রাখতে হবে সংসার সুখের হয় রমনির গুণে। মেয়েরা বেশি আয়ুষ্কালের হয়। বেশি কষ্ট সহিষ্ণু হয়। উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আমরা স্থানীয় সরকারের নারীর অংশগ্রহনের কোট ৩০ শতাংশ নিশ্চিত করেছি। মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ নানাবিধ দিকে নারীর ভাগ্যের উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি। আমরা আগমীতে প্রতিটি উপজেলায় কর্মজীবি নারীদের হোস্টেল করে দিব। যে হোটেলে থেকে নারী তার কর্মস্থলে স্বাচ্ছন্দে যোগ দিতে পারবেন। তাদের জীবন যাত্রাকে সহজ ও শান্তিময় করতে পারবে।
তিনি বলেন, এছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। যেখানে দেশী-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভীত্তি আরো শক্তিশালী হবে।
এ বছরে বেগম রোকেয়া পুরস্কার পেলেন- সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিন্নাতুনন্নেসা তালুকদার, প্রফেসর জোগরা আনিস, শীলা রায়, রমা চৌধুরী (মরনোত্তর) ও রোকেয়া বেগম।
পদকপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২৫ গ্রাম স্বর্ণের পদক, একটি সার্টিফিকেট ও দুই লাখ করে টাকা দেয়া হয়। পদকপ্রাপ্ত জিন্নাতুনন্নেসা তালুকদার নিজের অনুভুতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। এ পদককে তিনি বাংলাদেশের নারী সমাজকে উৎসর্গ করেন।
বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর এ দিন সারাদেশে সরকারিভাবে রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারো রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।