Tuesday, August 25

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে কোনো ব্যবস্থা নয় : কাদের

0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের যে অভিযোগ প্রিয়া সাহা করেছেন, সে জন্য তার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না। এমনটি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে প্রিয়া সাহা যে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন, এ বিষয়ে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হবে।

রোববার আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে ঢাকা মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সময়বদ্ধ পরিকল্পনার ব্র্যান্ডিংবিষয়ক সেমিনার এবং লাইসেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা হচ্ছে- তার (প্রিয়া) বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে কোনো ব্যবস্থা নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কে প্রিয়া সাহা যে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন, এ বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ তাকে দিতে হবে। উনি কোন উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেছেন তা জানতে হবে, এর পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, আগে সরকার প্রিয়া সাহার বক্তব্য শুনবে পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইতিমধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ঢাকায় দুটিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক মামলা করা হয়েছে, এমন প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের সম্মতি নেয়ার পর তা গৃহীত হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীও (আ ক ম মোজাম্মেল হক) তার (প্রিয়া সাহার) বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছিলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে তাকে নিষেধ করেছি। কারণ তড়িঘড়ি করে ব্যবস্থা নেয়া ঠিক নয়। প্রিয়া সাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী-ই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রোববার সকালে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকায় দুটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আর অপর মামলাটি করেছেন ঢাকা বারের আইনজীবী সমিতির বর্তমান কার্যকরী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ইব্রাহিম খলিল।

প্রসঙ্গত গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬ দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে তিন কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।

এর পর তিনি বলেন, এখন সেখানে এক কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।

ভিডিওতে দেখা গেছে, একপর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীল হয়ে ওই নারীর সঙ্গে হাত মেলান।
কারা এমন নিপীড়ন চালাচ্ছে? ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘দেশটির মৌলবাদীরা এসব করছে। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।’

প্রিয়া সাহার দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির বহু উদাহরণ সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরছেন নেটিজেনরা। বাংলাদেশ যেখানে ধর্মীয় সম্প্রতির মডেল হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে সেখানে বিদেশ গিয়ে প্রিয়া সাহার এমন নালিশ দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে বলেও মনে করেন তারা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.