টানা কয়েকদিন প্রবল বর্ষণে কারণে বান্দরবান- চট্টগ্রাম- কক্সবাজার সহ প্রধান সড়কের যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ও সাঙ্গু নদীর পানি বাড়তি ফলে বান্দরবান বাজালিয়া বড়দুয়ারা এলাকার সড়কের হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত সমান পানি নিচে তলিয়ে গেছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সড়ক প্লাবিত হলে বান্দরবানের সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বান্দরবান বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ঝন্টু দাশ।
ফলে সড়কের উভয় দিকে যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শত শত যাত্রীর। সড়কের চলছে নৌকা, রিক্সা,ভ্যান করে পারাপার করছে বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবি মানুষ।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো: দাউদুল ইসলাম জানিয়েছেন, যারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে এসেছেন তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে যারা এখনও সরে আসেননি তাদেরকে নিরাপদ স্থানের সরে আসার জন্য বিভিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে । এছাড়াও পুলিশ, জনপ্রতিনিধি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বোঝাচ্ছেন। তবে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী তাদেরকে সরে আসার জন্য আমরা বাধ্যও করতে পারি। যদি বোঝানোর পরও তারা যদি সরে না আসে তাহলে আমরা আইন প্রয়োগ করব ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ে ভারী বর্ষণের কারণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থাকা জনগণদের নিরাপদ স্থানে সরে আসার জন্য আজও জেলা- উপজেলায় মাইকিং করা হয়েছে এবং খোলা হয়েছে ১২৬টি আশ্রয় কেন্দ্র । এর মধ্যে বান্দরবান সদরে ১০টি, লামায় ৫৫টি, রুমায় ৬টি, থানচিতে ৩টি, আলীকদমে ১০টি, রোয়াংছড়িতে ২২টি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
এদিকে জেলার সাঙ্গুর নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে থানচি উপজেলার জিন্না পাড়াসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ৩০জনের অধিক পর্যটক আটকা পড়েছে। নৌ ও পাহাড়ী পথে যােগাযােগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ন হওয়ার কারনে রুমা ও থানচি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলাগুলোর বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছে। গতকাল সােমবার সকালে দশ মাইল চিম্বুক এলাকায় সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়ে বান্দরবানের সাথে রুমা ও থানচি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। পরে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহযোগিতা বিকালে ফের সড়ক যোগাযোগ চালু হয়।