
মোঃ হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে পোকা মাকড় দমনে অত্যাধুনিক পদ্ধতি ফেরমন ট্র্যাপের ব্যবহার বিধি নিয়ে চলছে মাঠ দিবস। বিশেষ করে ভুট্টা ক্ষেতে ফল আর্মি ওয়ার্ম পোকা দমনে ফেরমন ট্র্র্যাপ দারুনভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন পোকা মাকড়ের মথ কিভাবে ফেরমন ট্র্যাপের আওতায় নিয়ে আসা যাবে সে বিষয়ে কৃষকদের মাঝে সচেতনামূলক মাঠ দিবস করছেন উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ। বিভিন্ন চরে ভুট্টা চাষিদের মাঝে এ নিয়ে মাঠ দিবস অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে তিস্তার ধূ-ধূ বালুচরে ভুট্টার ভাল ফলন দেখা দিয়েছে। ভুট্টাসহ নানাবিধ ফসলে ভরে উঠেছে তিস্তার চরাঞ্চল। জমি জিরাত খুঁয়ে যাওয়া পরিবারগুলো পুর্নরায় চরে ফিরে এসে চাষাবাদে ঝুকে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া জমির ফসল ঘরে তুলতে পেরে খুশি কৃষকরা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত রাক্ষুসি তিস্তা নদী এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের হাজারও একর জমিতে এখন চাষাবাদ করা হচ্ছে নানাবিধ প্রজাতির ফসল। বিশেষ করে ধান, গম, আলু, বেগুন, মরিচ, পিঁয়াজ, রসুন, টমেটো, বাদাম, সরিষা, তিল, তিশি, তামাক, কুমড়া মুসড় ডাল, ভুট্টাসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষাবাদ করা হচ্ছে।
কথা হয় কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গীজানি গ্রামের ভুট্টা চাষি ফয়জার রহমানের সাথে। তিনি বলেন, এ বছর চরে ব্যাপক ভুট্টার চাষ করা হয়েছে। ফলনও ভাল দেখা দিয়েছে। তিনি নিজে ৪ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছে। ভুট্টা ক্ষেতে ফল আর্মি ওয়ার্ম পোকা দমনে কৃষি অধিদপ্তর হতে ফেরমন ট্র্যাপ ব্যবহারের উপর মাঠ দিবস করছে। যার কারণে পোকা মাকড় ভুট্টা ক্ষেতের তেমন ক্ষতি করতে পারছেনা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি প্রণোদনা প্রকল্পের আওতায় স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় চরের কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ফলন ভাল হলে অধিক লাভ করা যাবে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৩৬ হতে ৪০ মন ভুট্টা পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য ২১ হতে ২৪ হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জিমি জানান, চরাঞ্চলের জমিতে এখন নানাবিধ ফসলের ভাল ফলন হয়। সে কারণে চরের মানুষ এখন অনেক খুশি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাশেদুল ইসলাম জানান, পলি জমে থাকার কারণে চরের জমি অনেক উর্বর। যার কারণে যে কোন প্রকার ফসলের ফলন ভাল হয়। তিনি বলেন, চরের কৃষকরা নিজে পরিজন নিয়ে জমিতে কাজ করে। সেই কারণে তারা অনেক লাভবান হয়। চরের জমি এখন ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী হয়ে উঠছে। ভুট্টা ক্ষেতে ফল আর্মি ওয়ার্ম নামে এক ধরনের পোকার আক্রমণের সম্ভাবনা থাকার কারণে ইদানিং ভুট্টা চাষিদের মাঝে পোকা দমনে ফেরমন ট্র্যাপ ব্যবহার বিধি নিয়ে মাঠ দিবস করা হচ্ছে।