বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া আসামি সুলতান শাহরিয়ার রশিদের জামাতা ফুয়াদ জামানকে গ্রেফতার করেছে সন্ত্রাস দমন বিষয়ক পুলিশের বিশেষ ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগ।
ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ওবায়দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেয়ার অভিযোগে বুধবার রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
ওবায়দুর রহমান বলেন, ফুয়াদ ফেসবুকে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রশংসা করে এবং বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করে গত ১৫ আগস্ট একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। এরপর গত ২৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য মোহাম্মদ নাজমুল হাসান পিয়াস ধানমণ্ডি মডেল থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ওই মামলা করেন।
আসামি ফুয়াদ জামান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদের মেয়ে শেহনাজ রশিদ খানের স্বামী বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে কটূক্তি করে এবং আদালতের রায়ে প্রমাণিত হত্যাকারীদের প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে গত ১৫ অগাস্ট ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন ফুয়াদ। বিষয়টি জাতির পিতার প্রতি ‘চরম অসম্মান ও মানহানিকর এবং উসকানিমূলক’ বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। তারপর ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারের পথও রুদ্ধ করে দেয়া হয়।
এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচার শুরু হয়। কিন্তু মামলার পর বিচার শুরু হলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর মামলার গতি মন্থর হয়ে যায়।
আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দণ্ডিত সুলতান শাহরিয়ার রশিদসহ পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয়।