জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে পলাতক আসামিদের অন্যতম ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে।
মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে সংবাদ মাধ্যমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ক্যাপ্টেন মাজেদ দীর্ঘদিন পালিয়ে ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণায় জানায়, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে (অব.) গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসি (সিটিটিসি) মিরপুর সাড়ে এগারো এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ইতোমধ্যেই তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এর বাইরে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শিগগিরই ব্রিফ করা হবে বলে তিনি জানান।
এর আগে, ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তারা হলেন- লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর বজলুল হুদা, লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহম্মেদ (আর্টিলারি) ও লে. কর্নেল একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার)।
এছাড়ও এখনো ১২ জনের মধ্যে ৫ জন বিদেশে পালিয়ে রয়েছে। পলাতকরা হলেন- কর্নেল খন্দকার আব্দুর রশিদ, লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল এএম রাশেদ চৌধুরী, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, লে. কর্নেল এসএইচ নূর চৌধুরী।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল সেনা সদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হানা দিয়ে আত্মীয়-স্বজনসহ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে শিশুসন্তান রাসেল, স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মামলা হয়। বিচারিক আদালত এ মামলায় ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আপিল বিভাগ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।