বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও আন্তর্জাতিক সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ণ অবয়বে উদ্ভাসিত হচ্ছেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘ভারতবর্ষের ইতিহাস’ প্রবন্ধে লিখেছেন যে, সেই জাতিই ভাগ্যবান যার নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণার রস খুঁজে পায়। আমাদের বড়ই দুর্ভাগ্য যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মহত্তম অর্জন এবং সেই অর্জনের প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এক সময় একদল জ্ঞানপাপী অযথা কুতর্ক করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করেছিল। এমনকি স্বাধীনতার ডাক কে দিয়েছেন এমন সর্বজন বিধিত বিষয়কেও খুবই নোংরাভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। আর দুঃখের কথা এই যে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই অপকর্ম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ইতিহাস তার আপণ গতিতে এইসব আর্বজনা দূর করে সঠিক পথেই এগিয়ে চলছে।
আজ ১লা আগস্ট সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংষ্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার মাসব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ বিতরণ অনুষ্ঠান ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন মুক্তিযুদ্ধ ও তাঁর মূল প্রেরণার উৎস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধীরে ধীরে সহ মহিমায় অধিষ্ঠিত হতে দেখে আমাদের নতুন প্রজন্ম এখন অনেকটায় আশ্বস্থ। দলমত নির্বিশেষে তিনি বাঙালি জাতির সবচেয়ে উজ্জ্বল আইকন হিসেবে দিন দিন আরো বিরাট হচ্ছেন, আরও প্রবল হচ্ছেন। আর সেই কারণেই তাদের বিভ্রান্তি কেটে যাচ্ছে। অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশকে নিয়ে তাই তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে শামিল হওয়ার কথা ভাবছে।
ড. অনুপম সেনআরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানব ইতিহাসের নৃশৎসতম হত্যাকান্ডে স্বপরিবারে প্রাণ হারান আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই আগস্ট বাংলার আকাশ-বাতাস- নৈসর্গ প্রকৃতিরও অশ্রুসিক্ত হওয়ার মাস। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল অস্থিত্ব পড়ে আছে আজ বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে। একথা বললে ভুল হবে না যে, বাংলাদেশের আরেক নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধান আলোচকের ভাষণে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন পরিষদ বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার মহাসচিব আলহাজ্ব দিদারুল আলম দিদার বলেন বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে কোনভাবেই বেঁচে থাকা সম্ভব না। তিনি শুধু স্বাধীন বাংলাদেশ দিয়ে যাননি, একটি সংবিধান দিয়েছেন। যে সংবিধানটি বিশ্বের অন্য সব গণতান্ত্রিক দেশের চেয়েও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় হৃদ্ধ ও আধুনিক। আজ দুঃখজনক হলেও সত্যি যে নতুন প্রজন্ম ভালো দিকগুলোর চেয়ে খারাপ দিকগুলোতে বেশি প্রলুব্ধ হচ্ছে। এরা সৃজনশীলতা বিমুখ। তারা দিন দিন যন্ত্রের কাছে বন্দী হচ্ছে। এমনকি বিবেকের হিতাহিত জ্ঞান লোভ পাচ্ছে। তাই দেখতে পাচ্ছি, সাইবার ক্রাইম এর মত অপরাধে তারা জড়িয়ে পড়ছে। সামান্য কারণে বন্ধুকে হত্যা করছে। এই প্রবণতা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। সন্তানকে সব কিছুতেই প্রথম হতে হবে এবং এজন্য এই মনোভাব শিশু কিশোরদের মেধা ও মননের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি আরো বলেন, শুধু লেখাপড়ায় প্রথম হওয়া সন্তানরা যোগ্য নাগরিক হবে তা সঠিক নয়। একজন মাশরাফি, একজন সাকিব, একজন সালমা, এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার পরীক্ষায় কখনো ফার্স্ট হননি। কিন্তু তারা বাঙালির অহংকার, বিশ্ববাসী তাদের চেনে। আমাদের নতুন প্রজন্মকে সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে। সভাপতির ভাষণে আয়োজক পরিষদের সমন্বয়কারী সাবেক ছাত্রনেতা এম এ মান্নান শিমুল বলেন আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যখন শৈশব কাল তখনই তার নেতৃত্বের গুনাবলী প্রকাশিত হয়। তিনি তখন স্কুল পড়–য়া ফুটবল পাগল এক দূরন্ত খোকা। টুঙ্গিপাড়ায় খোকা যে স্কুলে পড়তেন একদিন সেই স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ.কে.এম ফজলুল হক । ঐ দূরন্ত খোকাটি তার সামনে গিয়ে দাড়িয়ে বললেন স্কুল ঘরের দূরাবস্থার কথা এবং এর সমাধান না করলে শেরে বাংলাকে ঘেরাও করে রাখা হবে। এই প্রথম শেরে বাংলা খোকার মাথায় হাত দিয়ে বললেন বাহ ছেলেটি তো বেশ সাহসী। তোমার কথায় আমি দাবী মেনে নিলাম। এই খোকাটিই হলেন ইতিহাসের রাখাল রাজা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকের প্রতিটি শিশু কিশোর ও শিক্ষাথীদেরকে সেদিনের খোকাটির মতই সাহসে ও সততায় বলীয়ান হতে হবে। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য সোনার বাংলার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবেই।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস মাসব্যাপী পালন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদুল কবির চৌধুরী, আয়োজক পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও নগর যুবলীগ নেতা জাবেদুল আলম সুমন, শিক্ষক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক কর্মী সজল দাশ, অচিন্ত্য কুমার দাশ, মো: হারুন, মো: জামাল উদ্দিন প্রমুখ।
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় কলেজ শিক্ষার্থীদেরকে বঙ্গবন্ধুর ও মহান স্বাধীনতা, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তারা প্রশ্নের উত্তর দেন। মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার শুরুতেই ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১‘র মহান মুক্তিযুদ্ধও ৭৫‘র আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন প্রধান অতিথি সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।