কে.এম রিয়াজুল ইসলাম, বরগুনাঃ অনিয়ম ও দূর্নীতির মধ্য দিয়ে বরগুনায় এসও আনোয়ারের সহযোগিতায় রাবিশ দিয়ে এলজিইডির রাস্তা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা এলজিইডি অফিসে অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে রাস্তা পাকা করার প্রতিবাদ করায় উল্টো হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে বিশ্বের বুকে ধারণ করিয়েছেন তখনও থেমে থাকেননি কিছু অসাধু চক্র। এ অসাধু চক্রের সাথে যোগসাজশে রয়েছে কিছু সরকারি কর্মকর্তারা।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় ১নং বদরখালী ইউনিয়নের কুমড়াখালী থেকে বাওয়ালকর সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তায় ট্রাক ভর্তি করে ইটের গুড়া (রাবিশ) ফেলা হচ্ছে । রাস্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যান্ত নিম্ম মানের ইটের খোয়া। ঘটনা স্থল থেকে কাজ তদারকি করার জন্য এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশালি মো: আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি অদৃশ্য কারণে ঘটনা স্থলে যেতে অপরগতা প্রকাশ করে বলেন, আপনারা ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করেন।এবিষয়ে ঠিকাদার গোলাম সরোয়ার কবিরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার কুমড়াখালী-বাওয়ালকর সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তাটি চলতি বছরের টেন্ডারের প্রেক্ষিতে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬১ হাজার ২২৯ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গোলাম সরোয়ার কবির এন্টার প্রাইজ।
গত ৫ ও ৬ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ নিম্ন মানের ইট দিয়ে রাস্তা তৈরির সংবাদ দেশের ভিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পরে এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশালী বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্থ করলেও বাস্তবে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরে ঠিকাদার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তিনি এবার খোয়ার পরিবর্তে রাস্তায় রাবিশ ফেলছেন । তাছাড়া তড়িঘরি করে নিম্ন মানের ভিটুমিন ও পাথরের কনা দ্বারা কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে এলজিইডি এর বরগুনা সদর উপজেলা প্রকৌশালী জিয়ারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন রাস্তার কাজ ভাল হচ্ছে। তাকে নিয়ে রাস্তা পরিদর্শণে যেতে চাইলে তিনি এসও আনোয়ারের সাথে কথা বলে জানাবেন বলে জানান।তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি যোগাযোগ করেন নি।