বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলী প্রেসক্লাব নির্বাচনে সরকারী কর্মচারী ভোট প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর তালতলী প্রেসক্লাব নির্বাচন এর নিার্দষ্ট দিন ও তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ঐদিন প্রেসক্লাব সভাপতি তালতলী ছোটভাইজোড়া ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক সহকারী মৌলভী মুঃ আঃ মুতালিব জেলা শিক্ষা অফিসে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের একটি প্রশিক্ষনে ক্ষমতার দাপটে অংশ গ্রহন করে ব্যস্ত থাকার কারনে নির্বাচনী তারিখ পরিবর্তন করে ১দিন পর ৩০ ডিসেম্বর রাত ৮টায় প্রেসক্লাব সভাকক্ষে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত সদস্যদের ভোটে আঃ মান্নান মাষ্টার সভাপতি ও বিতর্কিত ভাবে মোঃ জসিম উদ্দিস সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
এ নির্বাচনে বাংলাদেশ প্রেস কাউনসিল, জাতীয় প্রেসক্লাব এবং জেলা প্রেসক্লাব এর বিধিমালা উপেক্ষা করে ১জন সরকারী কর্মচারী উপস্থিত হয়ে স্ব-শরীরে তার ভোট প্রদান করেছেন। ইনি হলেন প্রেসক্লাব নির্বচনে সভাপতি প্রার্থী, তালতলী উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোঃ গোলাম কিবরিয়ার ছোট ভাই, তালতলী উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ গোলাম কবির সাগর। সরকারী কর্মচারী হওয়ায় বিধি অনুযায়ী যারা প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা, তারাই আবার একটি অশুভ শক্তির ইঙ্গিতে প্রেসক্লাবের ২টি গুরুত্বপূর্ন পদে প্রতিদন্ধীতা করছেন এবং স্ব-শরীরে তার ভোট প্রদান করেছেন। তাই অভিলম্ভে এই প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে সম্পূর্ন অবৈধ ঘোষনা করে সরকারী কর্মচারীর প্রেসক্লাবের সদস্য পদ বাতিল করে পুনুরায় নির্বাচন দেয়া একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন উপজেলাবাসী।
এ ব্যাপারে প্রেসক্লাব নির্বাচনে মনোনিত নির্বাচন কমিশনার তালতলী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আবু ছিদ্দিক (০১৭১৮৬৮০৭০৪) এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সরকারী কর্মচারী গোলাম কবির সাগরের সাংবাদিক হিসেবে উপস্থিত হয়ে স্ব-শরীরে ভোট প্রদান করার কথা স্বীকার করে বলেন আমার হাতে কোন পদত্যাগ পত্র পাইনি। তালতলী প্রেসক্লাব নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি আঃ মান্নান মাষ্টার (০১৭১৯৮১৬৩১১) এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রেসক্লাব নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পর গত ২২ ডিসেম্বর সরকারী কর্মচারী গোলাম কবির সাগর পদত্যাগ করার কথা থাকলেও পদত্যাগ না করে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে অদৃশ্য শক্তির বলে সাংবাদিক হিসেবে স্ব-শরীরে ভোট প্রদান করেন। অপরদিকে সম্পাদক পদে প্রতিদন্ধী প্রার্থী মোঃ আরিফ হোসেন ফসল বলেন, প্রেসক্লাব-এ ১২জন ভোটারের মধ্যে ১জন ভোটার (তালতলী উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ গোলাম কবির সাগর) সরকারী চাকুরী করার পর ভোটের দিন ও পদত্যাগ করেননি। বাকী ১২জন ভোটার প্রত্যাক্ষ ভাবে ভোট প্রদান করলে ৬ ভোট করে পাই ফলে ফলাফল ড্রো হয়। পরে লটারীর মাধ্যমে অভিনব পদ্ধতিতে বিতর্কিতভাবে জসিম উদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়।