Wednesday, September 30

বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ২-৩ শতাংশে

0

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। পরের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। বিশ্বব্যাংকের সাউথ এশিয়া ইনোনমিক ফোকাস প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এ পূর্বাভাস।

এ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টিং শেফার বলেন, ‘করোনার বিস্তাররোধ ও জনগণের জীবন রক্ষা করা, বিশেষ করে অতি দরিদ্র মানুষ, যাদের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ, তাদেরকে সুরক্ষা দেয়ায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন দক্ষিণ এশিয়ার সরকারপ্রধানরা। যথাযথভাবে করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে এ দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়বে এবং দারিদ্র্য মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, মহামারির প্রভাব নির্ভর করছে কত দ্রুত করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে, তার ওপর। করোনায় আক্রান্তের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নির্দেশনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ মাসের শুরুতে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। করোনা মোকাবিলা ও এ অবস্থা কাটিয়ে উঠায় বাংলাদেশকে সবসময় সহযোগিতা করবে বিশ্ব ব্যাংক বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় চলে যাবে মালদ্বীপ, তারপর যথাক্রমে আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এই দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে যাবে।

ঋণাত্মক না হলেও চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বেশি ক্ষতির দিকে থাকবে যথাক্রমে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও ভারত। অর্থাৎ এই দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে চলতি অর্থবছরে থাকছে ভারতই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। তবে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ২ থেকে ৩ শতাংশ।

এতে আরও বলা হয়, পরবর্তী ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ আরও কমতে পারে। এ সময় ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

২০২১-২২ অর্থবছরে অল্প বেড়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ২ দশমিক ৮ থেকে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ দাঁড়াবে বলে জানায় বিশ্ব ব্যাংক।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.