বান্দরবান প্রতিনিধিঃ এই বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানের চারদিকে উঁচু নিচু পাহাড়ের ভাঁজগুলো ঢেকে আছে মেঘের আড়ালে। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে হাজারো পর্যটক। তাছাড়া বান্দরবানে নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র সৃষ্টি হওয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে আগের তুলনায়, সেই সাথে এখানকার পর্যটন স্পট গুলোতে বাড়তি বেচা-কেনা হচ্ছে। একমাত্র পর্যটকদের উপর নির্ভর করে তাদের ব্যবসা সচল থাকে।
অদৃশ্য শক্তি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বান্দরবানকে লকডাউন ঘোষণার পর সবকিছু থমকে গেল। করোনা সংক্রমণ এড়াতে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস যাবৎ বন্ধ থাকায় পর্যটন এলাকাগুলো এখন পর্যটক শূণ্য বললেই চলে। সেই সাথে থেমে গেছে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় রোজগার।
লকডাউনের কারণে দোকান বন্ধ থাকায় আয় করতে না পেরে ঘরে বসে ছিলাম। শৈল প্রপাতে প্রায় ১৫-১৮ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সেই ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি ঝুঁপড়িতে দোকান খুলে বসত, সবারই একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভান নুর জিরে বম।
তিনি জানান, এই ব্যবসা-ই আমার একমাত্র আয়ের উৎস। বিশেষ করে ঈদের সময় পর্যটক বেশি থাকলে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়েছে এমনও দিন গেছে। করোনার কারণে মার্চ মাস থেকে দোকান বন্ধ থাকায় এক টাকাও আয় করতে পারিনি। সরকার লকডাউন খুলে দেয়ায় পর্যটকদের আগমনের আশায় আবার নতুন করে দোকান খুলতে শুরু করেছি।
পসরা সেজে বসে আছে আরেক দোকানি পার কিম বম তার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বকে নাকাল করে দিয়েছে। এর প্রভাব থেকে আমরাও রেহাই পেলাম না। পর্যটক হচ্ছে আমাদের দেবতা সমতুল্য, পর্যটক থাকলে দিনে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করে থাকি। পাঁচ মাস ধরে দোকান বন্ধ ছিল। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আশা করছি পর্যটক আসলে আবার আগের মত বেচাকেনা ভালো হবে।
তাছাড়া যারা ঘরে বসে বসে কোমড় তাঁতের কাপড় বুনতো তাদের অবস্থা আরো নাজেহাল। এমন এক নারী লাল কিম বম-এর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসটি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। থামি (পরনের কাপড়) থেকে শুরু করে গামছা, কম্বল, রুমাল, চাদরসহ বিভিন্ন রকমারি জামা-কাপড় বুনে থাকে। উৎপাদিত এসব কাপড় বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এখান থেকে ক্রয় করে নিয়ে যায় বিক্রির উদ্দেশ্যে। ক্রেতা না থাকায় ব্যবসায়ীরাও তার কাছে এসব তাঁতের তৈরি পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে আসছে না। তার বাড়িতে পরে আছে নিজেদের তৈরি শত শত বিভিন্ন রকমারি জামা কাপড়।
শৈল প্রপাত, স্বর্ণ জাদি, নীলাচল, মেঘলা ও চিম্বুক পাহাড় এ সব কয়েকটি পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কয়েকটি দোকান নতুন করে খুলতে শুরু করেছে। তবে বান্দরবান শহর থেকে ৭কি.মি. দূরে পর্যটন স্পট শৈল প্রপাতে ১৫-২০ জনের মত বান্দরবান থেকে কাছের শহর চট্টগ্রাম সাতকানিয়া এলাকার পর্যটকদের ঘুরতে দেখা গেছে। তবে অন্যান্য পর্যটন স্পট গুলোর বাইরে গেইট বন্ধ থাকায় পর্যটকদের দেখা মেলেনি।
প্রসঙ্গত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১৯ মার্চ থেকে বান্দরবানে সব ধরনের পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন।