কিকিউ মার্মা,বান্দরবান : বান্দরবানে নানা আয়োজনে মধ্য দিয়ে তিনদিন ব্যাপী শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ওয়াগ্যোয়াই পোয়েহ্ বা শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। তিন মাস বর্ষাব্রত শেষে আসে প্রবারণা পূর্ণিমা। এই দিনে বিহারগুলোতে থাকে বর্ণিল আয়োজন।
আজ রোববার (১৩ অক্টোবর) প্রবারণা পূণির্মা উপলক্ষে সকাল থেকে নানা ধর্মীয় উৎসব আয়োজন মধ্যে দিয়ে বান্দরবানে পূজানীয় ব্যক্তিরা বৌদ্ধ বিহারের সমবেত হয়ে ভগবানে উদ্দেশ্যে ফুল পূজা, কাঁচা ফল পূজা, পানীয় পূজা, মোমবাতি ও আগরবাতি পূজাসহ নিজ হাতের তৈরি পিঠা ও ছোয়েং (আহার) দান করেন ভক্তরা।
সন্ধ্যায় নর-নারী, দায়-দায়িকা,উপ-উপাসীকাবৃন্দ পুনরায় বিহারের সমবেত হয়ে আদিবাসীরা নিজেদের ঐতিহ্য পরিধান পোষাক করে পূণ্য লাভের আশা বিহারে নগদ অর্থ দান,মোমবাতিও হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন, অষ্টপরিষ্কার দান,পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করবেন। ওইসময় বান্দরবান রাজবিহারে অধ্যক্ষ ধর্মগুরু উ পঞঞা জোত মহাথের(উচহ্লা ভান্তে) সবার উদ্দেশ্যে ধর্ম দেশনা দেবেন। এসময় নর-নারীরা সমবেত হয়ে ভান্তে কাছ থেকে প্রার্থনা গ্রহন ও দেশের শান্তির জন্য মঙ্গল কামনা করবেন। ধর্মদেশনা শেষে ভগবান বুদ্ধের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হবে আকাশে নানা রংবেরং এর ফানুস বাতি। এছাড়া সন্ধ্যায় বিশাল আদলে রাজহংসী তৈরি রথ তার ওপর একটি বুদ্ধ মূর্তি স্থাপন করে রথটি টেনে বৌদ্ধ বিহারে নিয়ে যাওয়া হবে।
তাছাড়া আজ রাত্রে বান্দরবান শহরের বিভিন্ন পাড়ার অলি-গলিতে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরির উৎসব আয়োজন করা হবে। ওইসময় পাহাড়ী তরুণ-তরুণীরা সারিবদ্ধভাবে বসে হরেক রকমের পিঠা তৈরি করে থাকে। পরদিন ভোরে নর-নারীরা সমবেত হয়ে ভগবান বুদ্ধের উদ্দেশ্যে বিহারে ছোয়েং(পিঠা আহার) দান করে। কিছু পিঠা, পায়েশ আবার প্রতিবেশীদের বাড়িতে বাড়িতেও বিতরণ করা হয়।
এদিকে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বান্দরবানের পুরাতন রাজার মাঠে রাজহংসী আদলে তৈরি কৃত রথে ভগবান বুদ্ধের উদ্দেশ্যে মোমবাতি জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা । ১৪ অক্টোবর সোমবার এই রথটি শহরের প্রধান সড়কের প্রদক্ষিণ শেষে মধ্যরাতে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানের ইতি টানা হবে।
এদিকে বান্দরবান জেলা ছাড়াও উপজেলাতে অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মলম্বীদের প্রবার্রণা পূর্ণিমা।