উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বিরোধীপূর্ণ বাবরি মসজিদের জমি মন্দির নির্মাণে হিন্দুদের দিতে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। রামের জন্মভূমি ট্রাস্ট এখন জমিটির অধিকারী হবে।
আর নতুন একটি মসজিদ নির্মাণে মুসলমান সম্প্রদায়কে শহরেই আলাদা একখণ্ড পাঁচ একরের জমি বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শনিবার ভারতের প্রধান বিচারক রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানক বেঞ্চ সর্বসম্মতিতে এ রায় দিয়েছেন।
হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতে গত কয়েক দশকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বিরোধপূর্ণ জমি।
গত ১৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে অযোধ্যা জমি বিতর্কের শুনানি শেষ হয়। অযোধ্যায় ২ দশমিক ৭৭ একর জমির দাবি জানিয়েছিল হিন্দু এবং মুসলিম উভয়পক্ষই।
সেখানে হিন্দুদের দেবতা রামের জন্মভূমি বলে দাবি করা হয়েছে। ১৯৮০ সাল থেকেই এই ইস্যুটি রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে।১৯৯২ সালে মসজিদটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। তখন দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন। সেই জায়গায় মন্দির তৈরি করতে চায় হিন্দুরা, মুসলিম সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, মসজিদের ধ্বংসাবশেষের ওপর মসজিদ তৈরির কোনো প্রমাণ নেই।
আগামী ১৭ নভেম্বর অবসরের আগে কয়েক দশকের এই আইনিবিরোধীদের নিষ্পত্তি করলেন রঞ্জন গগৈ।
বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন, বিচারপতি এসএ বোবডি, ডিওয়াই চন্দ্রাচুড, অশোক ভুষান ও এস আবদুল নাজের।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি প্রকল্প গঠন করতে বলেছে শীর্ষ আদালত।
এই প্রকল্পের অধীন একটি সংস্থা গঠন করে তিন মাসের মধ্যে বাবরি মসজিদের জমির ভেতর ও বাইরের প্রাঙ্গন রামজন্মভূমি ট্রাস্টকে হস্তান্তর করতেও বলা হয়েছে।
অযোধ্যার বিখ্যাত কোনো স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণে পাঁচ একরের একখণ্ড জমি মুসলমানদের দিতেও রায়ে বলা হয়েছে।