নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে লীজ পাওয়া স্বমসামিত্ব্য গৃহনির্মান সমবায় সমিতির (রেজি নং ৬০৮১) জায়গা কবলা দলিল নং ৬৩০৮ ও ৫৩৩, নবায়ন দলিল নম্বর ১১৮৬১ ও ১১৮৬২, তারিখ ১২/০৯/১৮ ইং। পি এস খতিয়ান ১৬৮১ ও ১৭১২, বি, এস খতিয়ান নং ১/৩৮ এর বিএস ৮০ দাগের ২.১৪ একর জায়গা সংস্কার করতে গেলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসীরা বিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। সেই চাঁদার টাকা না পেয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর তারা স্বমসামিত্ব্যের সদস্যর উপর বর্বরোচিত হামলা করে। এতে আহত হয় সদস্য ফজলুল হকসহ তার পরিবারের স্ত্রী কন্যাসহ ৪জন। এ নিয়ে সমিতির সম্পাদক আমিনুল হক নিজে বাদী হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক কাউন্সিলর মোবারক আলীসহ ২৬জনকে আসামী করে মামলা করেন। জানা যায়, পুলিশ মাত্র একজন আসামীকে গ্রেফতার করলেও বাকী আসামীরা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে।
সমিতি সুত্রে জানা যায়, ফ্যাসীবাদি সরকারের আমলে সমসামিত্ব গৃহ নির্মান সমিতির সদস্যরা তাদের লীজপ্রাপ্ত জায়গায় ভুমিদস্যু সাবেক কাউন্সীলর মোবারক আলি ও তার সহযোগী সন্ত্রাসী এবং অবৈধ দখলদারদের কারনে নিজেদের ন্যায্য জায়গায় বসতি স্হাপন করতে পারেননি। এমনকি সমিতির অনেক বসতি সদস্যদের উচ্ছেদ করে দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তবর্তীকালিন সরকার আমলে সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সমিতি তাদের সদস্যদের দখলকৃত জায়গায় সংস্কার করতে যায়। সংস্কারের এক পর্যায়ে সাবেক কাউন্সিলরের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা সেই আগের মতো বিশ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে সদস্যদের উপর গত ১৯ সেপ্টেম্বর এই সরকারের আমলেই বর্বরোচিত হামলা করে। আরো জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সমিতির পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর সমিতির সদস্যরা গত ২৮শে সেপ্টেম্বর পুনরায় সংস্কার কাজ করতে গেলে এই মামলার আসামীরা আরো অনেক সন্ত্রাসীদের নিয়ে এক জোট হয়ে আসে এবং পুলিশ তাদের আসার কারন জানতে চাইলে, তারা বলে আলোচনা করার জন্য এসেছে। পুলিশ তাদের কাছে এই জায়গার কোন কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের কাছে কোন কাগজ পত্র নাই। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের সাথে বৈঠকে বসে তাদেরকে সমাধানের জন্য থানায় যেতে বলে। বৈঠকের এক পর্যায়ে তাদের আরো অনেক সন্ত্রাসী এসে পুলিশের সামনেই অস্ত্রের মহড়া দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে ও ইটপাটকেল ও ককটেল ছুড়তে থাকে। এসব দেখেও পুলিশ সেখানে আসামীদের গ্রেফতার করেনি। শুধু তাই নয় পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার না করে এক অডিও ক্লিপসে শুনা যায় সমিতির সদস্যদেরকে আসামী ধরতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিতে পরামর্শ দেন।
সমিতি ও মামলার এজহার সুত্রে জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামী ধানাধীন রৌফাবাদ পশ্চিম ষোলশহর মৌজার বিএস দাগের -৮০ নং প্লট ২.১৪ একর জায়গা সম-স্বামিত্ব গৃহ নির্মাণ সমিতির অংশে সমতল করার জন্য সমিতির সদস্য ফজলুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং তারিখে ফজলু সেই জায়গা সংস্কার করার এক পর্যায়ে অনুমান দুপুর একটার দিকে একদল সন্ত্রাসী উক্ত প্লটে আসিয়া ফজলুল হকের নিকট হইতে বিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে এবং বলে যে চাদার টাকা না দিলে তাহাকে উক্ত জায়গা সমতল করতে দেওয়া হবে না বলিয়া বিভিন্ন হুমকি দেয়। পরবর্তীতে গত ১৯শে সেপ্টেম্বর আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে উল্লেখিত সম-স্বামিত্ব গৃহ নির্মাণ সমবায় সমিতির জায়গা সংস্কারের সময় সন্ত্রাসীরা কাজ বন্ধ করিয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, সমিতির সাইনবোর্ড ভেঙ্গে পেলে। তাহাদের হাতে থাকা কিরিচ, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, লাটিসোঠা দিয়ে সমিতির ফজলুল হক ও তার পরিবারের উপর হামলা করে। এতো ফজলুল হকের বাম বুকের ২টি হাঁড় ভেঙ্গে যায়। আহত অবস্হায় ফজলুল হক মাটিতে পড়ে গেলে তার শোর চিৎকার করিলে তাহার স্ত্রী, বড় মেয়ে পিংকি (২৬), ছোট মেয়ে লিজা (১৮), ছেলের বউ ফারজানা (২৭) আগাইয়া আসিলে আসামীরা তাহাদের উপর এলোপাতাড়ি মারধর করিয়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নীলাফুলা জখম করে। এতে তারা গুরতর আহত হয়। পিংকির কানে থাকা ২জোড়া কানের দুল, ১টি গলার চেইন, একটি স্যামসাং মোবাইল ও একটি রিয়েলমি মোবাইল এবং ফজলুর পকেটে থাকা এক লক্ষ পয়ত্রিশ হাজার টাকা নিয়ে যায়। তাদের শোর চিৎকারে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় ফজলূল হক ও তার পরিবারকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে আসে। বর্তমানে সে এখনো মেডিকেলের চিকিৎসাধীন আছে।
এ নিয়ে স্বমসামিত্ব্যের গৃহ নির্মান সমবায় সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, ২৬জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করি। যার মামলা নং ২৮/২০২৪ইং। সন্ত্রাসী আসামীরা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে। তারা এলাকায় এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ আটকে গড়িমশি করছে। আসামীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলে আমরা নিজস্ব জায়গায় আবাসন সংকট উত্তরনে শান্তিপূর্ণ ভাবে কাজ করতে পারবো।। আমরা কোন বিশৃংখলা না করে আইনগতভাবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে কাজ করতে চাই।
এ বিষয়ে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, স্বমসামিত্ব সমিতি সংস্কার কাজ করার সময় মারামারির ঘটনায় আমরা মামলা নিয়েছি। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। অপরাধী যেই হোক বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়া হবেনা।