Tuesday, August 18

বাড়ছে শিশুশ্রম হুমকির মুখে বংপুর

0

এম হামিদুর রহমান লিমন, রংপুর অফিসঃ আজকের শিশুরাই দেশ ও জাতির কর্ণধার। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের দেশ, জাতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এজন্য শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে শিশুদের শারীরিক,মানসিক ও মেধার বিকাশের জন্য নানা ধরণের পরিচর্যার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের শিশুরা অশিক্ষা ও দারিদ্র্যের কারণে তাদেরমৌলিক অধিকার থেকে নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। অভাবের কারণে জীবনের শুরুতেই নিজেরা বিভিন্ন শ্রমের সাথে জড়িয়ে ফেলছে নিজেদের। জাতিসংঘের শিশুসনদের সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী সকলকেই শিশু বলে অভিহিত করা হয়েছে।

এ সংজ্ঞা অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংস শিশুর মধ্যে পড়ে যায়।বাংলাদেশের শিশুর সর্বজন স্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। জাতীয় শিশুনীতিতে ১৪ বছরের কম বয়সীদের শিশু বলা হয়েছে। সংবিধিবদ্ধ আইনের ধারা অনুযায়ী ১৭ বছরের কম বয়সীদের শিশু বলা হয়েছে। আবার কোনো কোনো আইনে শিশুদের বয়স সীমা ১১-এর মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারই অর্থনৈতিক ভাবে অস্বচ্ছল। এইসব পরিবারের শিশুদের ছোট বেলা থেকেই উপার্জনের চিন্তা করতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক শিশুই দৈনন্দিন জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য নানা ধরণের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হচ্ছে।আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও ইউনিসেফ এর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় যে,বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে প্রায় ৩০১ ধরণের অর্থনৈতিক কাজ-কর্মে শিশুরা শ্রমদিচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে কুলি, হকার, রিকশা চালক, ফুলবিক্রেতা, আবর্জনা সংগ্রাহক, ইট-পাথর ভাঙ্গা, হোটেল বয়, বুন্নকর্মী, মাদক বাহক, বিড়ি শ্রমিক ও কলকারখানার শ্রমিক ইত্যাদি। শিশু শ্রমকে দারিদ্র্যের ফসল বলা যায়। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণেই শিশুরা বাধ্য হয়ে শ্রমের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

ইউনিসেফ এর পরিচালিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায় ৪৩ শতাংস শ্রমজীবী শিশু পারিবারিক অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে শহরে স্থানান্তরিত হয়ে বিভিন্ন ধরণের কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের শিশু শ্রমের কারণ হিসাবে দেখা গেছে দারিদ্রতা । বাংলাদেশের অধিকাংশ শিশুই দারিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। ফলে এই সব পরিবারের শিশুরা তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কর্মে নিযুক্ত হয়।- অনেক সময়অভিভাবকরা আর্থিক সংকটের কারণে তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ব্যর্থহয়,বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয়ভার অনেক বেশি। গ্রামাঞ্চলের অনেক
পরিবারের শিক্ষা সম্পর্কে অসচেতনতা।দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা।-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপ্রতুলতা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি।- শিশুর অধিকারসম্পর্কে আইনগত পদক্ষেপের অভাব। বাংলাদেশের শ্রমবাজারে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।এভাবে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পুরো দেশ ও জাতি অন্ধকারে ঢেকে যবে।

কারখানায় কর্মরত এক শিশু জানান, হামরা চার ভাই বোন। মোর আব্বা ভ্যান চালায়। হামরা ঠিকমত খাবার পাইনা তাই মোর আব্বা আম্মা এখানে কজি করার জন্য পাঠাইছে। সেই শিশু আরো বলে মুই নেখা পড়া কইরব্যার চাও। মুই সুযোগ পাইলে লেখাপড়া করি দেশের জন্য কজি করিম।

কর্মরত সকল শিশুই জানায় যদি লেখা পড়ার সুযোগ পেতাম তাহলে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পাব ।

শিশু শ্রমিকদের যদি বা প্রতিটি কারখানা সহ সকল কর্ম স্থলে প্রসাশন যদি রেট দিয়ে কারখানার মালিকদের জেল সহ জরিমানা করত। আর যদি দারিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের যদি বিনা মুল্যে বই বিতারণ থেকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ

যেহেতু শিশুরা আগামী দিনে দেশ ও জাতির হাল ধরবে তাই শিশুদের শ্রম থেকে মুক্তি দিয়ে শিক্ষায় আলোকিত করতে হবে।সেই জন্য দারিদ্র শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারের উধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আর্কশন করছে সচেতন মহল

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.