লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় প্রচন্ড শীতের কারণে শীত জনিত রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে লোকজন স্থানীয় হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। গত তিন দিনে শীত জনিত রোগে দুই শতাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শীত জনিত রোগে আক্রান্তদের দেখতে শনিবার রাতে হাতীবান্ধা হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক আবু জাফর। সরকারী ভাবে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
শনিবার রাতে হাতীবান্ধা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ওই হাসপাতালের জরুরী বিভাগে সারা দিন ৩১ জন রোগী চিকিৎসা নিলেও তাদের মধ্যে ২২ জন রোগী শীত জনিত রোগে আক্রান্ত। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশু ও নব জাতকের সংখ্যা অনেক বেশি। শীত জনিত রোগে আক্রান্তদের কেউ কেউ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। আবার অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে।
শনিবার রাতে শীত জনিত রোগে আক্রান্তদের দেখতে হাতীবান্ধা হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক আবু জাফর। এ সময় ইউএনও সামিউল আমিন, এসিল্যান্ড শামীমা সুলতানা ও পিআইও ফেরদৌস আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন।
এ দিকে গত কয়েক দিন ধরে জেলায় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষজনের মাঝে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা শীত বস্ত্র বিতরণ করছেন।
শনিবার রাতে জেলা প্রশাসক আবু জাফর জেলার হাতীবান্ধা ও কালিগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল, এতিম খানাসহ বিভিন্নি এলাকায় শীত বস্ত্র বিতরণ করেন। এ সময় হাতীবান্ধায় চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ স্কুল ছাত্রী সুমিকে আর্থিক সহায়তাও করেন হাতীবান্ধা উপজেলা প্রশাসন।
হাতীবান্ধা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ যুগল কিশোর রায় বলেন, শীত জনিত রোগে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি । যারা অল্প অসুস্থ তারা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে। যাদের বাড়ি দুরে বা অসুস্থ বেশি তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, শীতার্ত মানুষজনের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। যত দিন শীত থাকবে তত দিন শীত বস্ত্র বিতরণ অব্যাহত থাকবে।