Tuesday, August 25

বিএনপির বিজয়ীরা শপথ নেবেন না- মির্জা ফখরুল

0

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ীরা শপথ নেবেন না। গতকাল বিকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের মনোভাব দেখে কর্মসূচি দেওয়া হবে। আগামী এক-দেড় মাস এভাবে এগোতে চাইছে দলটি। সে ক্ষেত্রে হঠকারী কোনো কর্মসূচি না দেওয়ার পক্ষে মতামত দেন স্থায়ী কমিটির নেতারা। নিরপেক্ষ সরকারের

দাবিতে আন্দোলন করে আসা বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও সমালোচনা করেছেন কোনো কোনো নেতা। গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর ২০-দলীয় জোটের বৈঠক হয়। সেখানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বৈঠকে জোটের শরিক নেতারা অংশ নেন। এর পর মতিঝিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নেতারা মনে করেন, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করে আগের রাত থেকে ভোটকেন্দ্র দখল করে ভোট কারচুপির মাধ্যমে জনগণের বিজয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছিনিয়ে নিয়েছে। এ অবস্থায় বেসরকারিভাবে ঘোষিত ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বেগম খালেদা জিয়ার বর্জনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে স্থায়ী কমিটির নেতারা মতামত দেন।

দলটি অতীতের ভুলভ্রান্তি দূর করে সামনের দিকে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী এক-দেড় মাস সরকারের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করবে। তাই এখনই বড় অথবা কঠোর কোনো কর্মসূচি না দিয়ে সারা দেশের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার পক্ষে মতামত দেন স্থায়ী কমিটির নেতারা। এখন থেকে তরুণ-প্রবীণ সমন্বয়ে দলকে পুনর্গঠন করার চিন্তা করছে বিএনপি। যারা বয়সের ভারে ন্যুব্জ এমন নেতাদের সম্মানের সঙ্গে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণদের জায়গা করে দেওয়া হবে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার, ভোটের ফলপরবর্তী স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বেশিরভাগ নেতার মন খারাপ ছিল। বৈঠকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কোনো মতামত দেননি।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একেবারে বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে নজিরবিহীনভাবে একটা যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে ত্রাস-ভীতি সৃষ্টি করে এ নির্বাচন করা হয়েছে। এ নির্বাচনকে নজিরবিহীন সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং ভোট ডাকাতি বলা যেতে পারে। এ ভোট ডাকাতির নির্বাচনের ফলকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা মনে করি, এ কলঙ্কজনক নির্বাচন বাতিল করে আবার অনুষ্ঠিত করতে হবে এবং এটা অবিলম্বে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেছেন এত গ্রেপ্তার-হামলার পর নির্বাচনে কেন গেলাম। তখনো বলেছি, এখানো স্পষ্ট করে বলছি, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দল। আমরা নির্বাচন করতে চাই, নির্বাচন করে সরকার পরিবর্তনে বিশ্বাসী। সে কারণে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচনে গেছি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। কমিশন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযোগ করে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.