মাসদার হোসেন মামলার রায়ে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠন করার বিষয়টি অবাস্তব। বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় পৃথিবীর কোথাও নেই। বিশ্বের ১৯৩টি গণতান্ত্রিক এবং অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কোথাও নেই। আমার মনে হয়, এ দাবিটা অবাস্তব। ভবিষ্যতে হবে কি হবে না সেটা আমি বলে দিতে পারি না। বর্তমানের এটা অবাস্তব ধারণা।
আজ রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের এক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক একথা বলেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দেখেন রিভিউ করার অধিকার কিন্তু সংবিধান প্রত্যেককে দিয়েছেন। সেখানে সরকারকে কিন্তু বাদ দেয়নি। সেই অধিকার নিয়ে আমরা রিভিউ করেছি। মাননীয় আপিল বিভাগ যখন মনে করবেন তখন তারা শুনানি করবেন, তারিখ দেবেন। এখন যেহেতু রিভিউ করেছি সেটা আপিল বিভাগের উপর ছেড়ে দেব। তারা কখন সময় দেবেন। সেই ক্ষেত্রে আমরাও চাই এ মামলার বিতর্কের অবসান হোক। এটুকুই বলতে পারবো। কারণ মামলাটি এখন সাবজুডিস হয়ে গেছে এর বেশি বলতে পারছি না।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে যেভাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে শৃংখলাবিধি করতে সেভাবেই করা হয়েছে। বিজ্ঞ অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃংখলা নির্ধারণ করার জন্য সুপ্রিমকোর্টকে একটা ক্ষমতা দেওয়া। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতির কাছে এই ক্ষমতা থাকবে। তিনি সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। ঠিক সেইভাবেই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কিন্তু এই শৃখলাবিধি করা হয়েছে। শৃঙ্খলাবিধি আপিল সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সেটি গ্রহণ করেছেন। আদালত কিন্তু তার মতামত স্পষ্ট করে প্রকাশ করেছেন। সেই ক্ষেত্রে গায়ে মানে না আপনি মোড়ল তাদের বক্তব্য নিয়ে আমাদের কিছু করতে হবে বলে আমার মনে হয় না।
আমরা শৃখলাবিধি সকলের গ্রহণযোগ্য হবে-সেভাবেই করেছি এবং সকলের প্রহণযোগ্য হয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস। বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের কথা যেটা বলা হচ্ছে। সেখানে আমি দুটো কথা বলি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে হত্যা করার পরে এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করার পরে বাংলাদেশে একটা ইন্ডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছিল। সেটা কিন্তু ২১ বছর বিদ্যমান ছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পরেও কোনো মামলা হয়নি। কেউ স্বপ্রণোদিত হয়েও রিট দায়ের করেননি। অনেকেই বলেন, ১৯৭২ সালে যে ১১৬ ছিল সেখানে ফিরে যাওয়া এবং আলাদা বিচারিক সচিবালায় করা। এ বিষয়ে প্রথমে আমি বলতে চাই এই সব প্রেক্ষাপটে আমাদের মনে হয় যেই অবস্থা বিদ্যমান আছে সেটাই বিচার বিভাগের জন্য শ্রেয়। প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিসতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু শৃঙ্খলা বিধিমালার যে গেজেট প্রণীত হয়েছে তাতে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। তাই আইন মন্ত্রণালয়ের প্রভাবমুক্ত একটি বিচার বিভাগীয় সচিবালয় স্থাপনপূর্বক পুনরায় গেজেটটি সংশোধিত আকারে প্রকাশ করে তা আপিল বিভাগে উপস্থাপনে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।