Wednesday, August 19

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শুরু

0

রাজধানীর কারওয়ান বাজার সংলগ্ন নির্মিত পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ভবন ভাঙা শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এ সময় ফায়ার সার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, রাজউক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় মন্ত্রী বলেন, সুন্দর ঢাকায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয় ভবনটি। পরিবেশের যা জন্য বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে। তাই আদালতের নির্দেশে ভবনটি ভাঙা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ভবন ভাঙা কার্যক্রম তদারকি করবে রাজউক ও নগর বিশারদরা।

ভবন ভাঙার কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুর্ঘটনা মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দু’টি টিম গঠন করা হয়েছে। যারা বিজিএমইএ ভবন ভাঙায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, যান্ত্রিক উপায়ে ভবনটি ভাঙা হচ্ছে। র‍্যাংগস ভবনের মত কোন ঘটনা ঘটবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৬ মাসের মধ্যে পুরনো বিজিএমইএ ভবন অপসারণ শেষ করা হবে। পর্যায়ক্রমে হাতিরঝিলের সব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হবে।

পানিপ্রবাহ রোধ করে গড়ে ওঠা এ ভবনকে হাতিরঝিল প্রকল্পের ‘বিষফোঁড়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করে হাইকোর্ট।

জলাধার আইন লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ আদালত ১৫ তলা বিশিষ্ট বিজিএমইএ ভবন ভাঙার আদেশ দেওয়ার পর গত এপ্রিলে ভবনটি ভাঙা এবং ভবনের ব্যবহারযোগ্য মালপত্র কিনতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এর আগে বিজিএমইএ ভবনকে হাতিরঝিল প্রকল্পের ‘ক্যান্সার’ আখ্যায়িত করে হাইকোর্ট ২০১১ সালে এক রায়ে ইমারতটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। আপিলে নিজেদের পক্ষে রায় না পাওয়ার পর তিন দফা সময় প্রার্থনা করে ভবনটির মূল মালিক তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ।

সর্বশেষ আদালতের দেওয়া সময়সীমা গত ১২ এপ্রিল শেষ হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবনের মালপত্র সরিয়ে নিতে একদিন সময় বেঁধে দেয় রাজউক। পরে সময় বাড়ানো হয় আরও কয়েক দিন। ভবনে থাকা বিজিএমইএসহ ১৯টি প্রতিষ্ঠান তাদের মালপত্র সরিয়ে নিলে ভবনটি সিলগালা করে দেয় রাজউক। এরপর থেকে গত ৯ মাস ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.