Sunday, September 6

বিমান ছিনতাইকারী ওই যুবক সোনারগাঁয়ের পলাশ

0

বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ বিজি-১৪৭ ছিনতাই চেষ্টাকারী মাহমুদ পলাশের (২৬) পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের কৃষক মো.
ফিয়ার জাহানের ছেলে মো. পলাশ আহমেদ।
সোনারগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের বাবা ফিয়ার জাহান আজ সোমবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, পলাশ মাহমুদ স্থানীয় তাহেরপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে দাখিল পাস করে। এরপর সোনাগাঁও ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়।

ফিয়ার জাহান বলেন, এরপর সে ঢাকায় চলে যায়। আর ঢাকা যাওয়ার পর থেকেই তার আচরণে পরিবর্তন আসতে থাকে। আমরা শুনেছি পলাশ ঢাকায় চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বাড়ির সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না। মাঝে মাঝে বাড়িতে আসলেও এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশতো না, কথা বলতো না।
তিনি বলেন, তার তিন মেয়ে এক ছেলে। পলাশ তার একমাত্র ছেলে। তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়ে বয়স চার বছর।

ফিয়ার জাহান বলেন, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পলাশ চিত্রনায়িকা শিমলাকে নিয়ে বাড়ি আসে। সেসময় মেয়েটিকে তার প্রেমিকা বলে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এর ঠিক দুই মাস পর আবার শিমলাকে বাড়িতে নিয়ে এসে তার বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেয়। বিয়ের কথা শিমলাও আমাদের কাছে স্বীকার করে। ওই রাতেই তারা আবার ঢাকায় চলে যায়।
তিনি জানান, সর্বশেষ ২০-২৫ দিন আগে পলাশ বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর তার আচরণে বিরাট পরিবর্তন দেখা দেয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করে, মসজিদে গিয়ে আজানও দিয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার বাড়ি থেকে যাওয়া আগে বলেছে, সে কাজের সন্ধানে দুবাই যাবে।

এদিকে সোনারগাও থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় নিহতের ছবি ফিয়ার জাহানকে দেখালে তার ছেলে নিশ্চিত করেন তিনি।
রোববার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের দুবাইগামী ওই উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পলাশ। পরে সেনা কমান্ডোদের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হন।
নিহত পলাশের বাবা বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইরাক ও সৌদিআরবে ছিলেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.