
ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ ছিনতাই চেষ্টাকারী কথিত মাহাদীর পরিচয় মিলেছে। তার নাম পলাশ আহমেদ (২৪)। বাবার নাম পিয়ার জাহান সরদার। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের পি আর জাহানের ছেলে পলাশ আহমেদ। র্যাবের ডাটাবেইজের খেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সোমবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিমান ছিনতাই করতে গিয়ে যে যুবক কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছেন, তার আঙুলের ছাপ ক্রিমিনাল ডাটাবেইজে থাকা এক অপরাধীর সঙ্গে মিলে গেছে।
তাদের ডেটাবেইজের তথ্য অনুযায়ী ওই যুবক পেসেঞ্জার লিস্টে ওই যাত্রীর নাম ছিল AHMED/MD POLASH, সিট নম্বর 17A। বিমানের টিকিটে এবং পেসেঞ্জার লিস্ট অনুযায়ী সে অভ্যন্তরীণ (ঢাকা-চট্টগ্রাম) রুটের যাত্রী ছিল। চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজটির।
জানা গেছে, ২০১২ সালের দিকে স্থানীয় তাহিরপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে। এরপর সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি।
তবে ঠিক কী ধরনের অপরাধের জন্য পলাশ আহমেদের নাম র্যাবের ক্রিমিনাল ডেটাবেইজে যুক্ত করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও তথ্য জানাতে পারেননি এ বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক।
এর আগে রোববার রাতে ওই যুবকের পরিচয় নিয়ে একাধিক তথ্য জানানো হয়, যা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়। প্রথমে বলা হয় তার নাম মাহাদী। পরে বলা হয় মো. মাজিদুল। তবে টিকিটে তার নাম মো. মাজিদুল লেখা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়। কিন্তু আজ যে তথ্য এল তাদের দেখা যাচ্ছে তার নাম মাহাদী ও মাজিদুল কোনোটিই নয়। তার নাম পলাশ।
গুলিতে নিহত হওয়ার সময় যুবকের নাম মাহাদী বলে জানান চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমান।
রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ওই যুবকের নাম মাজিদুল।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা পাইলট-ক্রুদের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও যৌথবাহিনীর অভিযানে ব্যর্থ হয়েছে। রোববার বিকালে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর মধ্যাকাশে এ ঘটনা ঘটে।
এর পর অত্যন্ত সুকৌশলে ককপিটের দরজা বন্ধ করে বিমানটিকে শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেন পাইলট। সেখানে উদ্ধার অভিযানের সময় উড়োজাহাজে থাকা অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীকে আহতাবস্থায় আটক করা হয়। পরে তার মৃত্যু ঘটে। এর আগে বিমানটির যাত্রী-ক্রুসহ সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।
বিমানের একজন পরিচালক জানান, বিজি-১৪৭ নম্বর ফ্লাইটটি রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার সিডিউল ছিল। এতে ১৩৪ যাত্রী ও ১৪ ক্রুসহ ১৪৮ জন ছিলেন।
ফ্লাইটের ককপিটে ছিলেন ক্যাপ্টেন শফিউল ও ফার্স্ট অফিসার মুনতাসির। কেবিন ক্রু ছিলেন নিম্মি, হুসনে আরা, সাগর, সাকুর ও বিথী। ওই ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টেকঅফ করার পর পরই ককপিটে বসে ক্যাপ্টেন শফিউল ও ফার্স্ট অফিসার মুনতাসির কোনোভাবে আঁচ করতে পারেন ভেতরে যাত্রীবেশে সন্ত্রাসী ঘাপটি মেরে আছে।
এর পরই পাইলট শাহ আমানতের টাওয়ারের কাছে জরুরি অবতরণের মেসেজ পাঠান। অত্যন্ত সুকৌশলে তিনি ফ্লাইটটি ল্যান্ড করার পর দ্রুত যাত্রীদের নিয়ে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
একটি সূত্র জানায়, ওই ফ্লাইটটি টেকঅফের পর পরই নিহত ব্যক্তি যাত্রী ককপিটে গিয়ে পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে চান। তাকে সে সুযোগ দেয়া হলে সে ক্যাপ্টেনকে জানায়- জরুরিভাবে এখনই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হবে।
এর পরই ক্যাপ্টেন কৌশলে জরুরি অবতরণের মেসেজ পাঠান টাওয়ারে। বিকাল ৫টা ৪১ মিনিটে ফ্লাইটটি শাহ আমানতে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই কেবিন ক্রুরা পেছনের জরুরি নির্গমনের দরজা দিয়ে একে একে সব যাত্রীকে বের করে আনেন। এদিকে ককপিটে আলোচনারছলে ক্যাপ্টেন ওই অস্ত্রধারীকে রেখেই বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। ভেতরে তখন ছিলেন কেবিন ক্রু সাগর।
এদিকে খবর পেয়ে চট্টগ্রাম বিমানবাহিনী ঘাঁটির অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র্যাবসহ অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষীদের যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হয়। তারা গ্রাউন্ড থেকে ফোনে অস্ত্রধারীর সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। তাকে ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত রেখে হঠাৎ একপর্যায়ে ফ্লাইটের ভেতরে পৌঁছে যান নিরাপত্তারক্ষীরা। তারা ওই অস্ত্রধারীকে জাপটে ধরে বের করে আনেন।