Thursday, September 17

বিমান বাহিনীর চাকুরীচ্যুত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্য মামলায় হয়রানীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

0

চট্টগ্রামে মিথ্যে মামলা দিয়ে বিমান বাহিনীর চাকুরীচ্যুত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। বরিশালের বাসিন্দা চাকুরীচুত বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা শুক্রবার (৩১ আগস্ট) বিকাল ৪ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মো. মাহবুব আলম লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, মোঃ মাহবুব আলম ২০০৫ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করে গত ২০১৪ সাল থেকে স্কোয়াড্রন লীডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় ২০১৮ সালের জুন মাসে ব্যক্তিগত জীবনে অনাকাঙ্খিত ভুল এর কারণে চাকুরীচ্যুত হন।

গত ২০১১ সালে মাহবুব বিয়ে করেন এবং ২০১৫ সালে কন্যা সন্তানের জনক হন। ২০১৫ সালের ২৮ আগষ্ট মাহবুব’র সাথে ফেইসবুকে পরিচয় হয় তার এক আত্মীয়ের সাথে (ডা: হাসিনা মমতাজ হীরা, প্রভাষক, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম)। ডা: হীরা ২০১০ সালে বিয়ে করেছিল তার সহকর্মী ডাঃ ওয়াহিদ চৌধুরী মাসুদ (মেডিকেল অফিসার, নাঙ্গলমোড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম)কে। কিন্তু তাদের সাংসারিক জীবন মোটেই সুখের ছিল না কারণ ডা: ওয়াহিদ প্রায়শই ডাঃ হীরাকে শারীরিক এবং মানসিবভাবে নির্যাতন করতো এবং মারধরের কারণে একবার তাকে SHAHIK Centre এ ৩/ ৪ মাস চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। মাহবুব ১৯৯৫ সাল থেকেই ডা: হীরাকে চিনতো এবং পছন্দ করতো কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক কারণে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি।

২০১৫ এর অক্টোবর মাসে মাহবুব ও ডা: হীরা তাদের ভাললাগার কথা জানায় এবং নিজেদের সংসারে অশান্তির থেকে পরিত্রাণ পেতে তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা তাদের নিজ নিজ সংসারে ডিভোর্স দিয়ে নতুন করে সংসার করবে। ডা: হীরা এক পুত্র সন্তান (ফাইয়াজ) এর মা হিসেবে সব সময়ই চাইতো ফাইয়াজকেসহ নতুন সংসার করার জন্য। একই সাথে সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ডা: হীরা মাহবুবকে বোঝাতো যদি নিজ নিজ সংসারে মানিয়ে নেয়া যায় সেটাও ভালো। কিন্তু তাদের মধ্যকার সুসম্পর্ক এবং ভালবাসা এবং ভালো বোঝাপড়ার কারণে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক অতিদ্রুত আগাতে থাকে।
অপরদিকে ডা: ওয়াহিদ এর ক্রমাগত খারাপ এবং অন্যায় আচরণ এর কারণেও ডা: হীরা ২০১৭ এর শুরুর দিকে মাহবুব কে বলে যে সে মাহবুব এর কাছে চলে আসতে চায় এবং মাহবুব যেন তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা নিয়ে যায় তারপর বৈধ ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিয়ে করে সংসারী হবার কথা জানায়।
কিন্তু বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষ মাহবুবকে সেই অনুমতি দেয়নি কারণ অযৌক্তিক কারণে মাহবুব তার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। ডা: হীরা মাহবুব এর সাথে সম্পর্কের বিষয়টি তার প্রাক্তন স্বামী ডা: ওয়াহিদ এর কাছ থেকে লুকিয়ে রাখে কারণ এতে তার উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাবে বলে। তারপর ২০১৭ এর ডিসেম্বর মাসে ডা: হীরা ঢাকায় এসে মাহবুব এর সহযোগিতায় তার ছেলেকে বিএএফ শাহিন স্কুলে ভর্তি করায় এবং জানুয়ারি ২০১৮ থেকে তার স্কুল শুরু হবার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। মাহবুব এবং ডা: হীরা ঠিক করে যে ডা: হীরা সবকিছু তার প্রাক্তন স্বামীকে খুলে বলবে এবং তারপর ডিভোর্স দিয়ে তার সন্তানসহ ঢাকায় শাহিনবাগে বাসা নিয়ে থাকবে এং ৩ মাস পর মাহবুবকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করবে। কিন্তু ডা: ওয়াহিদ সব শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং মাহবুবকে তার নিজ বাসা (আলফা শাসন টাওয়ার, ফ্ল্যাট নং-৯০৩, বাড়ী-২৩, রোড-০১, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম) এ ডেকে সবকিছু শুনে মাহবুব এর বিরুদ্ধে ডা: হীরা কে দিয়ে পাঁচলাইশ থাকায় জিডি করায় এবং বিমান বাহিনীতে কমপ্লেইন করায়, ডা: হীরার সাথে সম্পর্কের বিষয়টি বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষ জানতো এবং মে ২০১৭ সালে তার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেবার জন্য অনুমতি চেয়ে মাহবুব আবেদন করায় তাকে শাস্তি দেয় এবং জানুয়ারি ২০১৮ ঢাকা থেকে যশোর এর Punishment Posting এ পাঠায়।

বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষ মাহবুবকে শেষবারের মত সাবধান করে দেয় যাতে ডা: হীরার সাথে কোনরূপ সম্পর্ক না রাখে এবং তার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দেয়। ডা: ওয়াহিদ এর বিষয়টি পুরোপুরি জানার পর তাকে শাস্তি দেবার জন্য ক্রমাগত আরো শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। ডা: হীরা তখন বাধ্য হয়ে ১৮ ফেব্র“য়ারি ২০১৮ এ ২০ লক্ষ টাকা দেনমোহর এ মাসে ডা: ওয়াহিদকে ডিভোর্স দেয় এবং মাহবুব এর সাথে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপিত হয়। মাহবুব এবং ডা: হীরা ১৫ মে ২০১৮ সালে কাউকে না জানিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এসে ঢাকা-যশোর এ রিজেন্ট এয়ার এর ফ্লাইটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যশোর চলে আসে। তারপর ১৬ মে ২০১৮ ঢাকা জজ কোর্ট এ বিয়ে করে। ১৫ মে যশোর এ এক ভাড়া করা বাসায় রাতে থেকে ১৬ মে ২০১৮ এ মাহবুব অফিস এ যোগদান করে।

ওইদিকে ডা: হীরাকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তার বাবা-মা বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে ছিল এবং সেই মোতাবেক বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষ মাহবুবকে জিজ্ঞাসাবাদ এর এক পর্যায়ে লিখিত বিবৃতি প্রদান করার সুযোগে ডা: হীরাকে নিয়ে দ্রুত সবাইকে না জানিয়ে ঢাকা চলে আসে। যাবার পর মোবাইলে এসএমএস করে যায় যে সে ডা: হীরাকে বিয়ে করে পুনরায় কর্মস্থলে যোগদান করবে। ১৬ মে ঢাকায় মিরপুর ডিওএইচএস এ তার এক অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মীর বাসায় থাকে। এরপর ১৭ মে সকালে বোন এর বাসায় দেখা করে ওয়ারী আড়ং এ বিয়ের কেনাকাটা করে কাজী অফিসে গিয়ে কবুল বলে বিয়ে করে ছোট বোনের বাসায় থাকেন। ১৯ তারিখ যমুনা ফিউচার পার্ক, ঢাকায় বিয়ের গহনা কিনে সন্ধ্যা ৬:১০ এর ইউএস বাংলা এয়ার এর ফ্লাইটে ঢাকা যেকে যশোর এ আসেন। ১৯ মে ২০১৮ রাতে যশোর ঘাঁটিতে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী ডা: হীরাকে নিয়ে রিপোর্ট করেন এবং রাতে ভাড়া করা আগের বাসায় থকে ২০ মে ২০১৮ সকালে ৮ টায় মাহবুব পুনরায় কর্মস্থলে যোগদান করেন। ২০ মে ২০১৮ বিকেল এ মাহবুব এর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত পরিষদ গঠিত হয় এবং তাকে Close Arrest(গৃহবন্দী) করা হয়। তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। (১. বিনা অনুমতিতে প্রথম স্ত্রীকে তালাক ২. বিনা অনুমতিতে ২য় স্ত্রী ডা: হাসিনা মমতাজ হীরাকে বিয়ে ৩. বিনা ছুটিতে কর্মস্থল ত্যাগ করা ৪. ডা: হীরার করা ৯ জানুয়ারি ২০১৮ এর জিডি ৫. ৯ জানুয়ারি ২০১৮ এ বিমান বাহিনী প্রধান বরাবর করা কমপ্লেইন ৬. মাহবুব কর্তৃক অপহরণ করে ডা: হীরাকে বিয়ে করা)। তদন্ত কমিটি ডা: হীরার সাথে ২০ মে ২০১৮ সন্ধায় কথা বলে নিশ্চিত হয় যে ডা: হীরা এবং মাহবুব স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে বিয়ে করেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে মাহবুব এর বিরুদ্ধে করা অপহরণ এর অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হওয়ায় ২১ মে ২০১৮ ডা: হীরার বাবা মোঃ হারুন অর রশিদ (নান্সী গার্ডেন, বাড়ী-২৫৩, রোড-১৬, ব্লক-বি, পল্লবী ২য় পর্ব, ইষ্টার্ণ হাউজিং, রূপনগর, থানা-মিরপুর, ঢাকা) তার অভিযোগ প্রত্যাহার করেন। ডা: হীরা যশোরে একা বাসায় থাকতো বলে মাহবুব ২১ তারিখ বিকালেই তার বাবা-মা কে ঢাকা থেকে যশোর এনে হীরা সাথে রাখেন।

অপরদিকে ডা: হীরা তখন মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করেন সে তার সন্তান ফাইয়াজ কে চট্টগ্রাম এ তার প্রাক্তন স্বামী ডা: ওয়াহিদ এর কাছে রেখে এসেছিল এবং তার সন্তানের সাথে কোনভাবেই তার প্রাক্তন স্বামী এবং শ^শুরবাড়ির লোকজন ফোনে কথা বলতে দিচ্ছিল না। তারপর ডা: হীরা ক্রমাগত তার প্রাক্তন শিশুর (মোঃ মাহবুব আলম চৌধুরী, জিন্নাত আলী চৌধুরী বাড়ি, গ্রাম-মাহমুদাবাদ, পো: এনায়েত পুর, থানা: হাটহাজারী, জেলা: চট্টগ্রাম) এর কাছে অনুনয় বিনয় করতে থাকে তার ছেলের (ফাইয়াজ) এর সাথে কথা বলার জন্য কিন্তু তিনি কিছুতেই রাজী হননি এবং তিনি ডা: হীরার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন। তারপর ২২ মে ২০১৮ এ ডা: হীরার মা-বাবা ফোন করে বাবার মিথ্যা অসুস্থতার কথা বলে হীরাকে ঢাকায় আসতে বলে। মাহবুব সরল বিশ্বাসে হীরাকে ঢাকায় যাবার অনুমতি দেয় এবং মাহবুব এর মা-বাবা হীরাকে তার বাসায় পৌছে দেয়। হীরার বাবার বাসায় যাবার পর থেকেই হীরার বাবা মা নানাভাবে হীরাকে প্ররোচিত করতে থাকে মাহবুব এর সাথে সম্পর্ক না রাখার জন্য।

অপরদিকে মাহবুব ডা: হীরার Posting চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ঢাকায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে চেষ্টা করতে থাকে এবং ডা: হীরা তার বাবা সহ গত ২৭ মে ২০১৮ ঢাকায় ডিজি হেলথ অফিস এ যায় মাহবুব এর রেফারেন্স নিয়ে। তারপর ডা: হীরা বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সদর দপ্তর এ যায় মাহবুব এর শাস্তি মওকুফ এবং দ্রুত মুক্তির জন্য। ডা: ওয়াহিদ এর বাবা মোঃ মাহবুব আলম চৌধুরী কোনভাবেই হীরার সাথে হীরার সন্তানের যোগাযোগ করতে না দেয়াতে হীরা মানসিকভাবে খুবই ভেঙ্গে পড়ে। হীরা তখন বাবা-মা এর কু-প্ররোচনায় এবং সন্তান এর কথা ভেবে ডা: ওয়াহিদ এর সাথে সমঝোতায় আসার কথা ভাবতে বাধ্য হয়। হীরার বাবা-মা হীরাকে প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রণা দিতে থাকে মাহবুব কে বিয়ে করার জন্য। তারপর মোঃ মাহবুব আলম চৌধুরী (হীরার প্রাক্তন শ^শুর) সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বিভিন্ন Conditions দিতে থাকে সন্তানকে ফিরে পাবার নিশ্চয়তা দিয়ে। মাহবুব চৌধুরী হীরাকে বাধ্য করে ১২/০৬/২০১৮ইং তারিখে মাহবুব এর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭, চট্টগ্রাম এ মিথ্যা মামলা (নারী ও শিশু মামলা নং-৬১৬/২০১৮ পাঁচলাইশ কারায়।

মামলা রুজ্জু করাকালীন সময় মাহবুব যশোর বিমান ঘাঁটিতে Close Arrest অবস্থায় ছিল এবং তার বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল হয় এবং মামলার কারণে তার শাস্তি বেড়ে যায় এবং তিনি স্কোয়াড্রন লীডার থাকা অবস্থায় চাকুরীচ্যুত হন। তারপরও মাহবুব ডা: হীরার সাথে তার সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন কিন্তু মাহবুব এর চাকুরী না থাকার কারণে এবং হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য হীরার মা-বাবা হীরাকে বাধ্য করে মাহবুব এর সাথে যোগাযোগ না করার জন্য। হীরা তার কর্মস্থল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এ পুনরায় ৬ জুন ২০১৮ যোগদান করে এবং সবাইকে বলে যে মাহবুব তাকে অপহরণ করেছিল, রেইপ করেছিল এবং মাহবুব এর সাথে তার বিয়ে হয়নি। তারপর সকল আত্মীয়-স্বজনকে বলেছিল মাহবুব তাকে অপহরণ করে জোর করে আটকে রেখেছিল যা বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে চরম মানহানিকর। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই চট্টগ্রাম এ তদন্তাধীন।

মাহবুব গত ১৬ জুলাই চইও, চট্টগ্রাম এ তার উপযুক্ত প্রমাণসহ (বিয়ের কাবিননামা, বিয়ের দিনের যুগল ছবি, আড়ং ওয়ারী আউটলেট এর শপিং ভাউচার, কুঞ্জ জুয়েলার্স, যমুনা ফিউচার পার্ক, ঢাকার ১,৬৩,৬০০/- গোল্ড ক্রয়ের ভাউচার, বিমানের টিকেট, বিমান বাহিনীর কাছে ডা: হীরার জবানবন্দি, হীরার বাবা কর্তৃক অভিযোগ প্রত্যাহার এর কপি, বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যকার এসএমএস, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এর আপলচারিতার কপি, বিভিন্ন সময়ে তোলা ছবি, যশোর ও ঢাকায় ১৫-২২ মে অবস্থানকালীন সেই বাসার মালিকদের বিবৃতি এবং আনুসাঙ্গিক ডকুমেন্ট হাজির হন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাইন উদ্দীন যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে সব প্রমাণাদী দেখেন এবং আশা করা যায় সঠিক রিপোর্ট তিনি বিজ্ঞ আদালত এ প্রেরণ করবেন। মাহবুব চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এর উর্ধতন কর্তৃক্ষের সাথেও এই বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন বেং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এর প্রিন্সিপাল মহোদয় গুরুত্বের সাথে বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এর বিভাগীয় প্রধান ডা: সায়ীদ মাহমুদ এর সাথে মাহবুব যোগাযোগ এর চেষ্টা করে ব্যাহত হচ্ছেন কারণ ডা: হীরা তার কর্মস্থলের সবাইকে মিথ্যা এবং বানোয়াট কথা বলছেন তার প্রাক্তন শ^শুর ও প্রাক্তন স্বামীর চাপে এবং ষড়যন্ত্রে। অপরদিকে ডা: হীরার প্রাক্তন শিশুর (মাহবুব আলম চৌধুরী) দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হীরার বাবার কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং মাহবুবকেও চাপ প্রয়োগ করেছেন।

ডা: হীরার পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, মাহবুব চৌধুরী এবং মোঃ হারুন অর রশিদ (হীরার বাবা) এর মাঝে টাকা পয়সার লেনদেন হয়েছে হীরাকে আগের সংসারে ফিরিয়ে নেবার নিশ্চয়তায়। মাহবুব চৌধুরী হীরার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হীরার বাবা-মা এর সম্পত্তি হাতিয়ে নেবার পাঁয়তারা করেছেন এবং হীরা এসএমএস এর মাধ্যমে সেটা তার স্বামী মোঃ মাহবুব আলমকে জানিয়েছে। হীরার বাবা-মা ও তাতে রাজী হয়েছেন সামাজিক অবস্থান এর কথা বিবেচনা করে; যেহেতু মাহবুব বর্তমানে বিমান বাহিনীতে আর নেই তাই আগের সংসারে ফেরত যাওয়াটাকেই তারা লাভবান মনে করে মাহবুব এর চরম মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি করেছেন।

হীরার প্রাক্তন শিশুর ও প্রাক্তন স্বামী যড়যন্ত্র করছে হীরার বর্তমান স্বামী মোঃ মাহবুব আলমকে নতুন করে মামলায় ফাঁসিয়ে আরো হয়রানী করার জন্য। ডা: হীরাও তাতে সহযোগিতা করে যাচ্ছে তার সন্তানকে ফিরে পাবার আশায়। মাহবুব ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এ তার স্ত্রীর সাথে দেখা/ যোগাযোগ করার উদ্দেশ্য যাতে না আসতে পারে সেই জন্য তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি এবং মিথ্যা ও সাজানো মামলা দেবার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ডা: ওয়াহিদ ও মাহবুব চৌধুরী।

ডা: হীরা বর্তমানে মেডিকেল কলেজের পাশেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। কিন্তু তার প্রাক্তন স্বামী প্রায়শই সন্তানকে তার মা-এর সাথে দেখা করার কথা বলে ডাঃ হীরার বাসায় যাচ্ছে যা কোনভাবেই কাম্য নয়। হীরা মাহবুব এর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও ডা: হীরাকে সন্তানের অজুহাত দিয়ে এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ডা: ওয়াহিদ বিভিন্ন সময়ে ডা: হীরার বাসায় যাচ্ছে।

মাহবুব চৌধুরী এবং ডা: ওয়াহিদ তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য মাহবুবকে ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় তারা মাহবুব এর ১ম স্ত্রীকে ফোন করে মাহবুব এর বিরুদ্ধে মামলা করতে কুপরামর্শ দিচ্ছে।

গত ৩০ আগষ্ট ডা: ওয়াহিদ মাহবুব এর ১ম স্ত্রীকে ফোন করে এবং মাহবুব যেন হীরাকে ফিরে পাবার চেষ্টা না করে সেজন্য হুমকি দেয়। মাহবুবকে চট্টগ্রাম এ দেখলে তারা মাহবুব এর ক্ষতি করবে বলেও ভয় দেখায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় নিজের নিরাপত্তা, স্ত্রীকে ফিরে পাওয়া ও সুবিচারের আশা নিয়ে মাহবুব আজকের এই সংবাদ সম্মেলন এর আয়োজন করেছে। মাহবুব তার স্ত্রী (ডা: মমতাজ হীরা) কে ষড়যন্ত্রকারীদের কাছ থেকে ফিরে পাবার আশায় আইন এর আশ্রয় নিয়ে ঢাকা পারিবারিক আদালত-৪ এ (পারিবারিক মোকদ্দমা নং-২৯০/২০১৮) গত ১৬ আগষ্ট ২০১৮ এ একটি মামলা করেন। মামলার আসামী হিসেবে ডা: ওয়াহিদ, মোঃ মাহবুব চৌধুরী, ডা: হীরার বাবা, মা ও রয়েছেন। সর্বশেষ ডা: ওয়াহিদ ও মোঃ মাহবুব আলম চৌধুরী এর ষড়যন্ত্র ও হীন উদ্দেশ্য ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক, সামাজিক কর্মী ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.