Monday, August 24

বিরোধী নেতা-কর্মীকে জেল থেকে মুক্তি দেন নোবেল বিজয়ী আবি আহমেদ

0

শত্রু দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তি স্থাপন করে বন্ধুতে পরিণত করে এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। দীর্ঘ ২০ বছরের সংঘাত আর সামরিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশের মানুষের মধ্যে অর্থনীতি আর জীবনমানের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ।

২০১৮ সালের এপ্রিলে ক্ষমতায় আসার পর আবি আহমেদ ইথিওপিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনেন যা ছিল উদারনৈতিক। এর মাধ্যমে তিনি ইথিওপিয়ানদের মনে জায়গা করে নেন। হাজার হাজার বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে জেল থেকে মুক্তি দেন প্রধানমন্ত্রী আবি। তিনি বিদেশে থাকা ভিন্ন মতাবলম্বীদের দেশে ফিরে আসার সুযোগ দেন। তার সরকারে নারীদের বিভিন্ন পদে বসানো হয়।

১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ইথিওপিয়া থেকে। কিন্তু ইরিত্রিয়ার সীমান্তবর্তী বাদমে অঞ্চলের দখল নিয়ে ২০ বছর ধরে ইরিত্রিয়া ও ইথিওপিয়ার মধ্যে সম্পর্ক চূড়ান্ত খারাপ। বারবার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রাণ গেছে দুই পক্ষেরই ৭০ হাজারের বেশি মানুষের। ক্রমেই মেরুদণ্ড ভেঙেছে দুই দেশের অর্থনীতির। ক্ষমতায় এসেই আবি আহমেদ প্রথমেই ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সংঘাত অবসানে সচেষ্ট হন। একইসঙ্গে চলতে থাকে অর্থনৈতিক সংস্কারের কাজ।

প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে আবি আহমেদ দেখা করেন ইরিত্রিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান আফওয়েরকির সঙ্গে। শুরু হয় সীমান্ত সমস্যা নিয়ে মত বিনিময়। ইতিবাচক আলোচনার শেষে দুই দেশের প্রধান ২০১৮ সালের ৯ জুলাই একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। আবি আহমেদ বাদমে অঞ্চলকে ইরিত্রিয়ার হাতেই সমর্পণ করেন। স্থির হয়, দুই দেশের মানুষ, পণ্য ও অন্যান্য সেবার জন্যে সীমান্ত খুলে দেবে উভয় পক্ষ। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনেকটাই বদলে দেয় দুই দেশের সম্পর্ক।

গতকাল যখন নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য আবির নাম ঘোষণা করা হয় তখন তিনি সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদকের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। গতকাল অসলোতে এক সংবাদ সম্মেলনে আবির নাম ঘোষণা করেন নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সচিব বিয়ার্ত্র অ্যান্ডার্সন।

তিনি বলেন, সামাজিক ন্যায় ও ঐক্য স্থাপনে আবি আহমেদের ভূমিকা অতুলনীয়। তাই পুরস্কৃত করা হয়েছে তাকে। দুই দেশের মধ্যে এখনো পুরোপুরি শান্তি না ফিরলেও তার উদ্যোগ শান্তি স্থাপনের সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করেছে বলে নোবেল কমিটি মনে করে।

অ্যান্ডারসন জানানা, অনেকে হয়তো বলতে পারেন যে আবি আহমেদকে তড়িঘড়ি করে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে তার উদ্যোগকে সম্মান জানাতেই এই পুরস্কার। তিনি বলেন, রোমও একদিনে তৈরি হয়নি। সামরিক সংঘাত নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নেও জোর দিয়েছেন আবি আহমেদ।

কেবল ইরিত্রিয়া নয়, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে দীর্ঘদিনের সমস্যা মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আবি। তার পুরস্কারে ইথিওপিয়াবাসী সন্তুষ্ট হলেও তারা বলেছেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আবিকে আরো অনেক কিছু করতে হবে যা তার জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জের। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স ও ডেইলি মেইল

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.