Sunday, July 26

বৃদ্ধি পেয়েছে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি – তারানা হালিম

0

তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষয়টি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় আইনগত, কারিগরী ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। তবে বিভিন্ন কারিগরি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে পিতা-মাতা-অভিভাবক হতে শুরু করে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সম্পৃক্ততায় একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অপরিহার্য।আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বেগম তারানা হালিম এ তথ্য জানান।

এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিটিআরসিতে বিডি-সার্ট গঠন করা হয়, যার মাধ্যমে ইন্টারনেটভিত্তিক অপরাধ দমনে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ইতোমধ্যে অসংখ্য সরকার বিরোধী ও ধর্ম বিরোধী কনটেন্ট আইআইজি-এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তা অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, টেলিযোগযোগ সেক্টরে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা সবসময়ের জন্য একটি আলোচিত বিষয়। কিন্তু এই অবৈধ ব্যবসার দরুন সরকারের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। অবৈধ ভিওআইপির জন্য বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ হ্রাস পেয়ে থাকে। টেলিযোগাযোগ সেক্টরে এই অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধকরণের জন্য বিটিআরসি হতে সময় সময় নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল রেট হ্রাস করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে অবৈধ ভিওআইপির পাশাপাশি ওটিটি এ্যাপস সমূহের ব্যবহার আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের পরিমাণ হ্রাসের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, বৈদেশিক কলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যেহেতু বিভিন্ন প্রাইভেট আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স এবং মোবাইলে বা প্রাইভেট ফোন অপারেটরের মাধ্যমে হয়ে তাকে, তাই দেশে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার জন্য টিবিসিএলকে সুনির্দিষ্টভাবে দায়ী করা যায় না। বিটিসিএল অবৈধ ভিওআইপি কলের সঙ্গে কোনভাবেই সম্পৃক্ত নয়। তাছাড়া বিটিসিএল অবৈধ ভিওআইপির বিষয়ে নিয়মিত নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।

সরকারি দলের হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে তারানা হালিম জানান, দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বাংলাদেেেশর টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নানা সুবিধা পাবে। এই স্যাটেলাইটের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের ১২টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ১টি ট্রান্সপন্ডার বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এতে করে ট্রান্সপন্ডার ভাড়া বাবদ অর্থের সাশ্রয় হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইটের ১টি ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার করে টেলিযোগাযোগ, টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং ইত্যাদি সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। দক্ষিণ এশিয় দেশগুলোর মধ্যে মহাকাশ যোগাযোগের ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা বৃদ্ধিতে এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নতুন মাত্রা যোগ করবে।

মাত্র আড়াই বছরে মোবাইল গ্রাহক বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশী ॥ সংসদ সদস্য মো. নবী নেওয়াজের প্রশ্নের জবাবে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বেগম তারানা হালিম জানান, গত সাড়ে আট বছরে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালে মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৪০ লাখ ১২ হাজার। ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার।

প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, সরকারি মোবাইল সংস্থা টেলিটকের নেটওয়ার্ক বেসরকারি কোম্পানীর তুলনায় বিস্তৃত না হওয়ার জন্য তুলনামূলকভাবে এর গ্রাহক সংখ্যা কম। তবে টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধিতে তেমন কোন উদ্যোগ নেই তা সঠিক নয়।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.