Monday, August 24

বেনাপোল বন্দরের গাফিলতির কারনে পাসপোর্ট যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে

0

বেনাপোল প্রতিনিধি :যশোরের বেনাপোল দেশের বৃহত্তর স্থল বন্দর। এ বন্দর দিয়ে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে যাতায়াতে বেশ সুবিধা হওয়ায় দেশের সিংহ ভাগ পাসপোর্ট যাত্রী এ রুটেই ভারত ভ্রমনে বা যে কোন প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করে থাকে। এরি মধ্যে পূজার আনন্দে বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জারের গন্ডি পেরিয়ে লোকাল রোডে দীর্ঘ লাইনে অবস্থান করেছে ভারতমুখি পাসপোর্ট যাত্রী। আর লাইনে আগে পার করে দেওয়া জন্য হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। এর মধ্যে এক নাম্বারে রয়েছেন ফয়জুল ইসলাম নামে এক বন্দর কর্মকর্তা।

আজ শুক্রবার দুপুর ৩ টার সময় প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে গিয়ে দেখা যায় শত শত লোক লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে আরো বন্দর কর্তা ফয়জুল ইসলাম ৫/৬ জনের একটি করে দল নিয়ে লাইনের আগে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এর বিনিময়ে প্রতি পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে ৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। লাইনে আগে পার করে দিয়ে টাকার নেয়ার সময় বন্দরের টয়লেট এর ভিতরে গিয়ে টাকা নিচ্ছে।সে নাকি বন্দরের চেয়ারম্যান এর কাছের লোক তাই অন্য কর্মকর্তারা তার ভয়ে কোন কথা বলে না।

পাসপোর্ট যাত্রী রমেশ কুমার বলেন, প্রায় দুই ঘন্টা একটানা দাড়িয়ে আছি জানিনা আর কত সময় এভাবে দাড়িয়ে থাকতে হবে।অনেকে লাইন বাদে চলে যাচ্ছে।সাদা পোষাকে একজন ৫০০ টাকা করে নিয়ে আগে পার করে দিচ্ছে তিনি নাকি বন্দরের বড় অফিসার।

স্থানীয়রা জানায়, দুর দুরান্ত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের সুবিধার্থে ২০১৭ সালের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনার চালু করে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। তখন থেকে এই টার্মিনাল এর অজুহাত দেখিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীর নিকট থেকে এট্রি ফি , ওয়েটিং র্ফি, সার্ভিস চার্জ ও টার্মিনাল চার্জ বাবদ ৩৮টাকা ৭৬ পয়সা নিত বন্দর কর্তুপক্ষ।এর ৬ মাস যেতে না যেতে কোন সুযোগ সুবিধা না বাড়িয়ে যাত্রীদের নিকট থেকে আদায় করছে কাগজে কলমে ৪২.৭৫ টাকা। তবে বাস্তবে নিচ্ছে তারা ৪৫ টাকা। পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে এই ৪৫ টাকা নিয়ে ২০ জন যাত্রীকে বসার কোন সুযোগ সুবিধা না দেওয়ায় জনমনে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এছাড়া প্রথমে পুরো টার্মিনাল ভবনের নীচতলা যাত্রীদের জন্য রাখলেও এখন তার অর্ধেকের বেশী আটকিয়ে দিয়ে কাস্টমসের স্কানিং মেশিন বসানো হয়েছে। যার কারনে ঝড় বৃষ্টির মধ্যেও মেইন রোড বেয়ে দীর্ঘ লাইনে দাড়াতে বাধ্য হচ্ছে পাসপোর্ট যাত্রীরা ।

বন্দর কর্তা ফয়জুল ইসলাম টাকা নিয়ে লাইনে আগে পার করে দিচ্ছে এ ব্যাপারে বন্দর ডিডি মামুনুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ঘুষ নিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীকে আগে পার করে দেয়া দূঃখ জনক কোন যাত্রী অভিযোগ দেইনি। আর তার সেখানে ডিউটি ছিলো না কেন সেখানে গেল তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.