বান্দরবান প্রতিনিধি,গেল সোমবার খাগড়াছড়িতে গুগড়াছড়ি ধর্মসুখ বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ বিশুদ্ধা মহাথের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বান্দরবানে বৌদ্ধধর্মালম্বীরা।রোববার সকালে পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের আয়োজনে বান্দরবান শহরের কেন্দ্রীয় রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গন থেকে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের আগত ভিক্ষু ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের বিভিন্ন সংগঠন মিলিত হয়ে একটি শোভাযাত্রা বের করেন। শোভযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবের সামনে এসে এক প্রতিবাদ সভা আয়োজন করেন। এসময় ব্যানার ও প্লেকার্ড হাতে নিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষু, দায়ক-দায়িকা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বুদ্ধের বাণী হচ্ছে “অহিংসা পরম ধর্ম”। একজন বৌদ্ধভিক্ষু তাঁর কোন হিংসা-বিদ্বেষ, সব ধরনের লোভ-লালসা এবং কারোর সঙ্গে ঝগড়া ও বিরোধে জড়িয়ে পড়েন না। ভদন্ত বিশুদ্ধা মহাস্থবির তিনিও তেমনই একজন বিহারাধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁকে দুষ্টচক্রিরা পরিকল্পিত ভাবে সোমবার রাতে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন ও এই পর্যন্ত যতগুলো ভিক্ষু হত্যা ও বৌদ্ধ বিহারের উপর হামলা হয়েছিল তা কোন সুষ্ঠু তদন্ত ও সু-বিচার পাই নি বলেও দাবি করেন।
মানববন্ধনের তিনটি দাবি তুলেন। দাবিগুলো হলো-অবিলম্বের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতার পূর্বক সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তদন্ত নামে গ্রামবাসীদের হয়রানি মূলক গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে।
এসময় বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের সাধারন সম্পাদক ভদন্ত তেজ প্রিয়, মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল জেলা সভাপতি অংচিংউ মার্মা, পার্বত্য ভিক্ষু কল্যাণ সমিতির সদস্য পঞঞাদীপা, পাবর্ত্য ভিক্ষু কল্যাণ পরিষদের লামা উপজেলার শাখা ভদন্ত নন্দমালা মহাথের।
শেষে সু-বিচারে দাবিতে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতের খাগড়াছড়ি গুগড়াছড়ি পাইমং মার্মা পাড়ায় কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বৌদ্ধভিক্ষু ভদন্ত বিশুদ্ধা মহাস্থবিরকে তার প্রতিষ্ঠিত বিহার ধর্মসুখ বৌদ্ধ বিহারে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় তিনি বিহারে একা ছিলেন।