প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে দক্ষতা বাড়াতে হবে। আমরা বাংলাদেশকে বাণিজ্যিকভাবে উন্নয়ন করতে কাজ করছি। পাশাপাশি নতুন পণ্য উৎপাদন ও এসব পণ্যের গুণগত মান যাতে বজায় থাকে সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সামনে আরো এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের পণ্যের প্রসার করতে হবে। নতুন নতুন পণ্য উৎপাদসের পাশাপাশি রপ্তানিও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কোন কোন দেশে বাজার আছে তাও খুঁজে বের করতে হবে। তবেই এগিয়ে যাবে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। আমরা কারো কাছে হাত পেতে চলবো না। দেশ গড়তে এসেছি, নিজের ভাগ্য গড়তে নয়।
প্রধানমন্ত্রিত্ব অল্প সময়ের, এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য কতটুকু গড়তে পারি সেটাই লক্ষ্য। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাগরিক যাতে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় ছিলেন। এর মধ্যেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের উন্নয়নকে গতিশীল করেছিলেন। যুদ্ধের পর শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু সেগুলো চালু করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় অনেক শিল্প কারখানার মালিক চলে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে যারা দেশে ফেরত এসেছিলেন তাদের শিল্পকারখানা ফেরত দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, নতুন শিল্প কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।‘মা যেমন রুগ্ন শিশুকে সেবা করে সুস্থ করে তোলেন। তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার জন্য কাজ করেছিলেন, বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোর যন্ত্রপাতি কেনার জন্য শুল্ক কমানো হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে, যাতে তারা শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারেন।
এবারের মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৫৮৯টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ১১২টি বড় ও ৭৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন। থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে এবারের মেলায়।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য। মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা,ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও রপ্তানিকারক এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।