মোঃ আয়ুব হোসেন পক্ষী,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: বেনাপোল পৌরসভার গার্মেন্টস ব্যবসায়ি ও ছাত্রলীগ নেতা মোঃ নাসির হোসেনের নামে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক হয়রানি,হেয় প্রতিপন্ন, করার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা মামলায় নাসিরকে আসামি করা হয়েছে এমটাই দাবি পরিবারের। সন্তানের নিদোর্ষ দাবি করে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন আসামির পরিবারটি।
মিথ্যা মামলার শিকার মোঃ নাসির হোসেন বলেন শার্শা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ, একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন শেখ আফিল উদ্দিন এমপি, অন্যটি বেনাপোলের পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, আমি শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং মেয়র গ্রুপ করায় ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নাম সহ আরো অনেক নিরীহ ব্যক্তিদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে।
লেবার শ্রমিকদের উপর বোমা হামলা ও মারামারি ঘটনায় আমার নামে যে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, তখন সে সময়ে (ঘটনার দিন) আমি আমার নিজের বাড়িতে অবস্থান করি। নাসির হোসেন আরও বলেন এখানে গন্ডগোল ঝামেলা হয়েছে লেবার শ্রমিকদের দু’টি গ্রুপের মধ্যে ,আমিতো স্থলবন্দরের লেবার বা শ্রমিক নয় যে আমি সেখানে উপস্থিত হবো, আমি একজন বেনাপোল বাজারের সাধারণ,গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ,তবে আমি কেন শ্রমিকদের ভিতরে মারামারিতে যাবো? সম্পূর্ণভাবে আমার নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।
(২৮শে অক্টোবর) মারামারির ঘটনা দিন আপনারা ফেসবুকে দেখতে পাবেন একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ছে, সেখানে দেখলে বুঝতে পারবেন কোন কোন ব্যক্তিরা এই মারামারি সাথে জড়িত। বোমা হামলার সাথে জড়িত হৃদয় নামে একটা ছেলের নামেও মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে, অথচ হৃদয় অনেক আগে থেকেই ভারতে অবস্থান করছে। তবে সে কিভাবে মামলার আসামি হলো?একই ভাবে সোহেল, বাপ্পি ,তরিকুল, এদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে এরা কোনভাবে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় বলে তিনি জানান ।
মিথ্যা মামলার শিকার শার্শা উপজেলার ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাসির হোসেনসহ ভুক্তভোগীদের পরিবার জানান, আমাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা থানায় দায়ের হওয়ার খবর জানার পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বেনাপোল পোর্ট থানার কাছে এর প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসি। নাসিরের পিতা বলেন আমার ছেলে নাসিরের বিরুদ্ধে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের কেউ একজন কোনরূপ খারাপ মন্তব্য পর্যন্ত করলে এবং খারাপ বলে অবহিত করলে আমি আইনগত সকল শাস্তি স্বেচ্ছায় মাথা পেতে নেব। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আমি মনে করি আইনের উর্ধে কেউ না। আমার ছেলে যদি অপরাধি হয় তার শাস্তি হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। কিন্তু কোন কারন ছাড়া কিভাবে আমার ছেলেকে সন্ত্রাস বানিয়ে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হলো এর পেছনে কারা জড়িত সব তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশের উর্ধতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মামুন খান বলেন শ্রমিকদের সাথে মারামারি ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলা যাবে না ,তবে কোন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে তিনি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য যে (২৮শ অক্টোবর) স্থলবন্দর বেনাপোলে শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি ও মারামারির ঘটনা ঘটে ,এই ঘটনা উল্লেখ করে বেনাপোল পোর্ট থানায় ৩২জনের বিরুদ্ধে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।