“প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন। জনপ্রতিনিধি, এলাকার দায়িত্ববাহক, সরকারি-বেসরকারি সেবা সংস্থাসমূহ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা যৌথভাবে এগিয়ে এসে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য উদ্যোগী হলে এই জনগোষ্ঠী সমাজের মূল ধারায় একীভূত হতে পারবে এবং সামাজিকভাবে তাদের ক্ষমতায়ন হবে।” – উন্নয়ন সংগঠন ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম আয়োজিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আলোকে উদ্বুদ্ধকরণ সভায় বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
আজ ৩০ মে বুধবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নং ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড কার্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছয়মাসব্যাপী পোষাক তৈরী ও সেলাই প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব। ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম এর প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়–য়া’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. জাকির হোসেন সিটি কর্পোরেশন হোমিও. মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এর অধ্যক্ষ ডা. মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সোহাইল উদ দোজা’র পরিচালনায় প্রশিক্ষণ উদ্বোধন ও উদ্বুদ্ধকরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড সচিব মো. নুরুল আলম, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সিডিআরপি কল্লোল কান্তি দাশ, ওয়ার্ড লাইব্রেরিয়ান কৃষ্ণ কমল সেন, সহকারি প্রকাশ সেন গুপ্ত প্রমুখ।
বক্তারা সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের পোষাক তৈরীর উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে, পোষাক তৈরীর অর্ডার নেয়া, কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি ও বিপনন ইত্যাদি বিষয়ে সকলের সমন্বিত সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণার্থীদের আর্থিক সহযোগিতার জন্য স্পন্সর সংগ্রহের উপর গুরুত্বারোপ করেন। সফলভাবে পোষাক তৈরী প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের নিজ উদ্যোগে সেলাই মেশিন প্রদানেরও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন প্রধান অতিথি কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী, তাদের পরিবারের সদস্য, পূর্বের ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী, বিভিন্ন ডিপিও ও এপেক্স বডির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন। ছয়মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণে ১২ জন প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণার্থী ওয়ার্ড কার্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। যুগান্তর এর সনাক্তকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এই ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম প্রতিবছর ৫০জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে টেইলরিং, হস্তশিল্প, চাহিদা ভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান এবং এর মধ্য থেকে বাছাইকৃত ১৫ থেকে ২০ জনকে আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ সহায়ক উপকরণ বিতরণ করে থাকে।