Wednesday, August 26

ব্রিটেনের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ, আজ ফলাফল

0

তীব্র শীত উপেক্ষা করে ব্রিটেনের ভোটাররা সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। গতকাল গিনিসমান সময় সকাল ৭টা (বাংলাদেশ সময় বেলা ১টা) থেকে টানা ভোট গ্রহণ করা হয়। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেন বের হবে কিনা, অর্থাৎ ব্রেক্সিট কার্যকর হবে কিনা- সেই ইস্যুতে এ নির্বাচন ছিল পাঁচ বছরের মধ্যে তৃতীয় সাধারণ নির্বাচন। ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ৬৫০টি সংসদীয় আসনে এ ভোট গ্রহণ করা হয়। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স। মাত্র ৫ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ভোটাররা বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দেন। এদিন এডিনবরায় তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৫ ডিগ্রি, কার্ডিফে ৯ ডিগ্রি, বেলফাস্টে ৭ ডিগ্রি এবং লন্ডনে ৮ ডিগ্রি। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া মাত্রই গণনা শুরু হয়েছে। ভোটের ফলাফল আজ জানা যাবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারও ফার্স্ট পাস্ট পোস্ট সিস্টেমের অধীনে এমপি নির্বাচন করা হচ্ছে। এ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি (টোরি পার্টি) এবং জেরেমি করবিনের লেবার পার্টির মধ্যে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আসন সংখ্যা ৬৫০টি। স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে কোনো একটি দলকে ৩২৬টি আসন পেতে হবে। তাই বরিস জনসন বা জেরেমি করবিন দুজনেরই আসল লক্ষ্য- শুধু বেশি আসন পাওয়াই নয়, এই সঙ্গে একটি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়াও লক্ষ্য। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন উত্তর লন্ডনে ভোট দেন।

বরিস জনসন ডাউনিং স্ট্রিটের কাছে মেথোডিস্ট সেন্ট্রাল হলে ভোট দেন। স্কটিশ কনজারভেটিভ নেতা জ্যাকসন কারলা পূর্ব রিফ্রুশায়ারের ক্লার্কস্টন হলে এবং স্কটিশ শ্রম নেতা রিচার্ড লিওনার্ড রেনফ্রুশায়ারের পাইসলে রালস্টন কমিউনিটি সেন্টারে নিজ নিজ ভোট দেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা জো সোয়েনসন এবং তার স্বামী ডানকান হ্যামেস গ্লাসগোতে ভোট দিয়েছেন। জনমত জরিপ : নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই জনমত জরিপগুলোতে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি এগিয়ে থাকবে। তারা প্রধান বিরোধী দল জেরেমি করবিনের লেবার পার্টির চাইতে বিভিন্ন সময় অন্তত ৬ থেকে ১৫ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু একেবারে সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই ব্যবধান আরও কমে এসেছে। সবশেষ জরিপে কনজারভেটিভ পার্টিকে ৪৩ শতাংশ এবং লেবার পার্টিকে ৩৩ শতাংশ ভোটার সমর্থন করছেন বলে দাবি করা হয়। নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবধান কমে আসার ফলে কনজারভেটিভ পার্টি সবচেয়ে বেশি আসনে জিতলেও সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার সম্ভাবনা এখন আগের চাইতে বেশি। তারা আরও বলছেন, ব্রেক্সিট ইস্যুকে ঘিরে গত সাত দশকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই নির্বাচন। এ ইস্যুতে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে পুরো ব্রিটেন। ফলে এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে দেশটির অনেক কিছু।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.