মো. আশরাফুল আলম, ফুলবাড়ী দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কারনে নতুন করে ১৩টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ক্ষতিপুরনের দাবীতে ৫ হাজার গ্রামবাসীর মানববন্ধন। আজ বুধবার ৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় বড়পুকুরিয়া খনি এলাকায় নতুন করে ১৩ টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় খনি কতৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপুরনের দাবীতে কয়লা খনি এলাকায় ৫হাজার গ্রামবাসী মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বড়পুকুরিয়া এলাকার ১৩ টি গ্রামের ৫হাজার নারী পুরুষ সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তার পার্শ্বে ফেসটুন ব্যানার নিয়ে ৬দফা দাবী আদায়ের লক্ষে ৩ঘন্টা মানববন্ধন করেন। বড়পুকুরিয় কয়লাখনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ১৩টি গ্রামের সমন্বয় কমিটির আহবায়ক মো. মশিউর রহমান বুলবুল মানববন্ধনে বক্তব্যে বলেন,আমাদের ৬দফ দাবী খনি কতৃপক্ষকে মেনে নিতে হবে। ৬ দফা দাবী সমুহ আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে।
এর মধ্যে কয়লা খনিতে ক্ষতিগ্রস্থ ১৩ টি গ্রামের মধ্যে মোবারক পুর,বইগ্রাম, কাশিয়াডাঙ্গা, রসুলপুর, কালুপাড়া, মহেশপুর, পাতরাপাড়া, বাশঁপুকুর, বৌধনাথপুর, কাজিপাড়া, হামিদপুর, চৌহাটি, যবরপাড়া, এলাকায় ভু-গর্ভ থেকে কয়লা উত্তলনের ফলে ঘর-বাড়িতে নতুন করে ফাটলের ক্ষতিপুরন দেয়া হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্থ ঐ সব বাসা বাড়ির উপযুক্ত ক্ষতি পুরন দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবার থেকে চাকরী ব্যাবস্থা করতে হবে ও কোটা রাখতে হবে।
ফুলবাড়ী থেকে খয়েরপুকুর হাট ও চৌহাটি থেকে ধুলাউদাল পর্যন্ত জনগনের চলাচলের জন্য রাস্তাটি উপযুক্ত করতে হবে। বড়পুকুরিয়ায় বর্ষাকালে রাস্তাটি পানির নিচে ডুবে যায়। এতে এলাকার মানুষ, স্কুল কলেজ এর ছাত্র ছাত্রী এবং অসুস্থ রোগী নিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইতিপূর্বে খনি কতৃপক্ষ এলাকার মানুষকে আশার আলো দেখিয়ে মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ, ফসলের জমি, বাসা বাড়ি, পুকুর সবকিছু ধ্বংস করে দিয়ে ৬ শত ২৭ একর জমি অধিক গ্রহন করেন। আজ এলাকার মানুষ খনির কারনে নিঃস্ব হয়ে গেছে। আর তারা এই এলাকার ক্ষতি করতে দিতে চায় না। নতুন করে ১৩টি গ্রাম ধ্বংস করে ২১শ একর জমি অধিকগ্রহন করার ষড়যন্ত্র করছে। খনি কতৃপক্ষ আমাদের দাবী মেনে না নিয়ে আমাদেরকে ভয়ভীতি, মামলা মোকদ্দমা করে আন্দোলনকে বন্ধ করতে চায়। আমরা তাদের এই হুমকীর কাছে মাথা নতো করতে চাইনা।
৫ই মে ২০০৭ সালের সরকার কতৃক নির্দেশিত পেট্রোবাংলা কয়লা খনি ও ক্ষতি গ্রস্থ এলাবাসীর মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০ দফা চুক্তি বাস্থবায়ন করতে হবে। সকল জমির বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং ক্ষতি গ্রস্থ এলাকা সকল নেতাদের নামে প্রশাসন ও খনি কতৃপক্ষের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। খনি কতৃপক্ষের মিথ্যা আস্বাস এলাবাসী আমরা মানি না। তাদের কোন কথার মিল নাই। খনিতে কর্মরত ৪ থেকে ৫ জন কর্মকর্তা খনিটিকে ধ্বংস করার পায়তারা করছে। তারা আজকে কোটি কোটি টাকার মালিক। আমরা সরকারের কাজে বাধা দিতে চাইনা। কিন্ত এই খনি থেকে সরকার বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করলেও আমরা আমাদের ক্ষতি পুরন পাবনা কেন? আজকে কেন এই রাস্তায় দাবী আদায়ের জন্য আন্দোলনে নামতে হবে। বিজিবি কতৃক বোমা বিষ্ফরনের ফলে ঘরবাড়ি ফাটলের ক্ষতিপুরন যথা সময়ে না দিয়ে হয়রানী করছে।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খনি এলাকার বৈগ্রামের বীর মুক্তি যোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম, চৌহাটি গ্রামের মো. মিজানুর রহমান, বৈগ্রামের মো. মোস্তফা, মোবারকপুর গ্রামের মো. হাসান, রসুলপুর গ্রামের মো. রতন, পাতরাপাড়া গ্রামের মো. মামুন, পাতরাপাড়া গ্রামের মো. সাইদুর রহমান, কাজিপাড়া গ্রামের মো. লিয়াকত আলী ও বৈগ্রামের মো. পান্না।
এ দিকে খনি কতৃপক্ষ বলছে, খনি এলাকার উত্তর দক্ষিন পাঠ সমুহের সমীক্ষার কাজ চলছে। এই কাজ জন্ডি বয়েড, মজুমদার ইন্টাপ্রাইজ ও এম,এ,পি,এল ও বিজিবি নামক কয়েকটি কোম্পানী কাজ করছে। তাদের এই জরিপ কাজ এলাকাবাসী ক্ষতিপুরন না পাওয়ায় বন্ধ করে দিয়েছে ।
এতে প্রতিদিন খনি কতৃপক্ষকে ১৬ লাখ টাকা করে ক্ষতিপুরন দিতে হচ্ছে। মানববন্ধ ও এলাকাবাসী ক্ষতিপুরন দেয়ার বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ এর সাথে বুধবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ১৩টি গ্রামের সমন্বয় কমিটির আহবায়ক বলেন ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আমাদের দাবী মেনে না নিলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষনা দেন। মানব বন্ধনে ১৩টি গ্রামের প্রায় ৫হাজার নারী পুরুষ অংশ নেয়।