দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা গায়েব। যার আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে ২৩০ কোটি টাকা।
এ ঘটনায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছে খনি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে পার্বতীপুর মডেল থানায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা করেন। মামলা নং ৩০।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ফখরুল ইসলাম মামলার তদন্ত শুরু করেছেন।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই ব্যবস্থাপক, উপ-ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সাময়িক বরখাস্তকৃত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুর-উজ-জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলাম, সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সদ্য বিদায়ী কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানীয়াসহ তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে ওই কয়লা চুরি বা ঘাটতির ঘটনার সঙ্গে ১৯ জন সংশ্লিষ্ট।
মামলায় বলা হয়, খনি উন্নয়নের সময় (২০০১) থেকে ১৯ জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত মোট এক কোটি এক লাখ ৬৬ হাজার ৪২ দশমিক ৩৩ মেট্রিকটন কয়লা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত কয়লা থেকে পার্শ্ববর্তী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৯ দশমিক ২৯ মেট্রিকটন কয়লা সরবরাহ, বেসরকারি ক্রেতাদের কাছে ডিও’র মাধ্যমে ৩৩ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ দশমিক ৩৭ মেট্রিতটন কয়লা বিক্রি এবং কয়লা খনির বয়লারে ১২ হাজার ৮৮ দশমিক ২৭ মেট্রিকটন কয়লা ব্যবহার করা হয়।
কয়লার উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার হিসাব করলে ১৯ জুলাই কোল ইয়ার্ডে রেকর্ডভিত্তিক কয়লার মজুদ দাঁড়ায় এক লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মেট্রিকটন। কিন্তু বাস্তবে মজুদ ছিল প্রায় তিন হাজার মেট্রিকটন কয়লা। অর্থাৎ এক লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মেট্রিকটন কয়লা ঘাটতি রয়েছে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩০ কোটি টাকা বলে জানানো হয়।
অভিযোগে মজুদকৃত কয়লার হিসাবের গড়মিলের বিষয়টি দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) এবং ৪০৯ ধারা অনুযায়ী এজাহারভুক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।
পার্বতীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফকরুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, মামলাটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলাটি দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।