Monday, September 14

ভোটারদের নিরাপত্তায় নির্বাচনে সহিংসতা রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত

0

একাদশ জাতিয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দিলেও আজ রবিবার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতেই বিশেষ নজর থাকবে প্রশাসনের। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের ৪০ হাজার ২৭৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৮২৭টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ১৪ হাজার ৪৪৬টি কেন্দ্র ‘সাধারণ’।

কৌশলগত কারণে ঘোষণা না দিলেও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্রগুলোই মূলত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। মোট কেন্দ্রের ৬৪.১৩ শতাংশই এমন। ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্র শনাক্ত করে নিরাপত্তার ছক কষেছে প্রশাসন। সংঘাতপূর্ণ এলাকা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি, মহানগরের কেন্দ্রস্থল, পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চল, দুর্গম অঞ্চলের কেন্দ্রগুলো ঠাঁই পেয়েছে এ তালিকায়। সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ (বিজিবি) স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং অন্য সংস্থাগুলো সহায়তা করলেও কেন্দ্রের পুরো নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে পুলিশ।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে একজন বা দুজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এমনভাবে নিরাপত্তা টহল, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও কেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা করা হয়েছে, যেন সব সময়ই টহল থাকে। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যেকোনো কেন্দ্রে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে দ্রুত অতিরিক্ত ফোর্স সেখানে উপস্থিত হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে টহলের সময় কঠোর অবস্থানে থাকবেন সেনা, বিজিবি, র‌্যাব ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। নিরাপত্তার প্রশ্নে সন্দেহভাজনদের আটক করে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরেই নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও গতকাল শনিবার রাত থেকেই কেন্দ্রগুলো ঘিরে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ গতকাল বলেন, ‘বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি সেনা সদস্য ভোটের মাঠে রয়েছে। কেউ যেন ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, বিশৃঙ্খলা না করতে পারে, সে জন্য তারা সার্বক্ষণিক টহলের মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি ভোটাররা যেন নিরাপদ অবস্থার মধ্যে থাকেন সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।’

পুলিশের আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। যেখানে যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেখানে সে ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘নির্বাচন ঘিরে কোনো অপশক্তি গোলযোগের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রগুলোকে দুই ভাগ করা হয়েছে। এক ভাগে রাখা হয়েছে ‘সমতল এলাকা’ এবং আরেক ভাগে আছে ‘বিশেষ এলাকা’। দুটি এলাকাতেই আবার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’ কেন্দ্র আছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘পুলিশের দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কেন্দ্র নেই। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সার্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী কেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ডিএমপি সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর এলাকায় ১৬টি সংসদীয় আসনে দুই হাজার ১১৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ৪৫৮টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৬৫৫টি কেন্দ্র সাধারণ। ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) বা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বা সার্জেন্টের নেতৃত্বে চারজন পুলিশ কনস্টেবলসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণ কেন্দ্রে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) বা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বা সার্জেন্টের নেতৃত্বে তিনজন পুলিশ কনস্টেবলসহ মোট চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ৫৯১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৪৮টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। খুলনা মহানগর এলাকায় ৩০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১০টিই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগরের ১৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬৮টিই গুরুত্বপূর্ণ; বরিশাল মহানগরে ১৯৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৬টি গুরুত্বপূর্ণ; সিলেটের ২৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২০২টি; গাজীপুর মহানগরে ৪২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩৮টিই গুরুত্বপূর্ণ এবং রংপুর মহানগরে ১৯৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৮টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের জেলাগুলোর সাত হাজার ৩৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে চার হাজার ৭৪টিই গুরুত্বপূর্ণ; চট্টগ্রাম রেঞ্জের পাঁচ হাজার ৭৯৮টি কেন্দ্রের মধ্যে তিন হাজার ৮৮১টি; রাজশাহী রেঞ্জের চার হাজার ৮৯৫টি কেন্দ্রের মধ্যে দুই হাজার ৮০৭টি; ময়মনসিংহ রেঞ্জের দুই হাজার ৭১১টি কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ৭৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ; রংপুর রেঞ্জের চার হাজার ১৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে দুই হাজার ৯০৭টি; খুলনা রেঞ্জের চার হাজার ৫২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে দুই হাজার ৮৪৯টি; বরিশাল রেঞ্জের দুই হাজার ৩৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ৬৯৭টি এবং সিলেট রেঞ্জের দুই হাজার ১৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ২৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মহানগর এলাকার ভোটকেন্দ্রের পাহারায় থাকবেন ১৬ জন সদস্য। এর মধ্যে অস্ত্রসহ পুলিশ সদস্য তিনজন, অঙ্গীভূত আনসার ১২ জন ও একজন গ্রাম পুলিশ। এসব এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সংখ্যা দুজন বাড়িয়ে পাঁচজন করা হয়েছে। মহানগরের বাইরের কেন্দ্রগুলোতে একজন পুলিশ সদস্যসহ ১৪ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুজন পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন সদস্য রাখা হচ্ছে। পার্বত্য এলাকা, দুর্গম ও দ্বীপাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে দুজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ ১৫ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্য একজন বাড়িয়ে ১৬ জন মোতায়েন করা হচ্ছে।সংবাদ সূত্র কালের কন্ঠ

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.