একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন ৫৪৩ জন। আজ থেকে শুরু হয়েছে তাদের আপিল শুনানি। ৮ ডিসেম্বর (শনিবার) পর্যন্ত অর্থাৎ টানা তিনদিনে এসব আপিল আবেদন শুনানি নিষ্পত্তি করবে ইসি।
প্রথম দিনের শুরুতেই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোর্শেদ মিল্টন, ঢাকা-২০ আসনে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তমিজ উদ্দিন, সাতক্ষীরা-২ আসনে জেএসডি মনোনীত প্রার্থী আফসার আলী, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মজিদ, ঢাকা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক। সিলেট-৩ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জয়পুরহাট-১ ফজলুর রহমান, মানিকগঞ্জ-২ মো: আবিদুর রহমান খান, সিরাজগঞ্জ-৩ মো: আইনাল হক, গাজীপুর-২ মো: মাহবুব আলমের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। জামালপুর-৪ আসনে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, মাদারীপুর-১ জহিরুল ইসলাম মিন্টু।
গত ২৮ নভেরের মধ্যে ৩ হাজার ৬৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বাছাইয়ে বাদ পড়েছে ৭৮৬টি, বৈধ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র রয়েছে ২ হাজার ২৭৯টি।
তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর থেকে প্রার্থী ও তার সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাওয়া প্রার্থীদের আপিলের শুনানি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় নির্বাচন ভবনের ১১তলায় কমিশন শুনানির কার্যক্রম শুরু করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য নির্বাচন কমিশনাররা শুনানি করছেন।
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, মোট ৫৪৩টি আপিল আবেদন পড়েছে। ৬ ডিসেম্বর প্রথম দিন ১ থেকে ১৬০ নম্বর আপিলের শুনানি হবে। ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনে ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর আবেদনের শুনানি হবে। আর ৮ ডিসেম্বর শেষ দিন শুনানি হবে ৩১১ থেকে ৫৪৩ নম্বর আবেদনের।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুনানি শুরু হয়ে নির্ধারিত আবেদন নম্বর শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
মনোনয়নপত্র বাছাইকালে ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আওয়ামী লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি মনোনয়নপত্র রয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৩৮৪টি।
৩৯টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট ২ হাজার ৫৬৭টি, আর স্বতন্ত্র ছিল ৪৯৮টি।
আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।