চলচ্চিত্রের সুদিন ফেরাতে দেশের হলগুলোর আধুনিকায়ন এবং মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া তরুণ প্রজন্মের মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাণের কথাও বলেন তিনি। আজ (রোববার) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৭ ও ২০১৮ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরুতেই চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৭ সালের জন্য অভিনেতা এ টি এম শাসুজ্জামান ও অভিনেত্রী সুজাতা এবং ২০১৮ সালের জন্য অভিনেতা প্রবীর মিত্র এবং আলমগীরের হাতে আজীবন সম্মাননা পদক তুলে দেন। এরপর ২৮টি বিভাগে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন শেখ হাসিনা।
এ সময় চলচ্চিত্রের বিকাশে সরকারের নেয়া নানামুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মফস্বলের সিনেমা হল রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বকীয়তা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে অপসংস্কৃতি রোধে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে অনেক কিছু করেছি। আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা সিনেমা দর্শক হারিয়েছে। কীভাবে দর্শককে আবারও হলে ফেরানো যায় সেজন্য অনেক উদ্যোগ হাতে নিয়েছি আমরা। আমি নিজেও হল মালিকদের সঙ্গে বসেছি। আমার মনে হয় দর্শক ফেরাতে হলে সিনেমাকে ডিজিটালাইজড করতে হবে। বিশেষ করে দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়েও সিনেমা হল ডিজিটাল করতে হবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। তাদের জন্য সময় উপযোগী বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মাদক-সন্ত্রাসের মত সমাজের অশুভ দিকগুলোর ব্যাপারে চলচ্চিত্রই পারে জনসচেতনতা বাড়াতে।
তিনি বলেন ‘শিল্পকলার সবগুলো মাধ্যমের ভেতরে সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম চলচ্চিত্র। এর মাধ্যমে মানুষের মনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব। মানুষের মনে গভীর দাগ কাটতে পারে এই চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে মানুষের জন্য। দেশে জঙ্গিবাদ আমরা প্রতিরোধ করছি। শুধু আইনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। চলচ্চিত্র এখানে বিরাট একটা ভূমিকা রাখতে পারে। সেদিকে আপনারা আরো বেশি নজর দেবেন।
প্রত্যেকটা ঘটনা ও কাহিনী যখন তৈরি হবে সেটা যেন জীবনভিত্তিক হয়। দেশের অনেক শিল্পী বাইরে গিয়েও ভালো কাজ করছেন। দেশেও যেন তারা ভালো কাজ করে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায়। আমরা ভারতের প্রখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগালকে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছি। এছাড়া বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে।
একটা সময় এ দেশে বঙ্গবন্ধুর নামও নেয়া যেত না। আজকে জাতির পিতার নাম শুধু দেশে নয়, বিশ্বের দরবারে স্থান করে নিয়েছে। ইউনেস্কো বাংলাদেশের সঙ্গে জাতির পিতার জন্মদিন যৌথভাবে পালন করবে বলেছে। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। সিনেমার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিয়েছেন। এটা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।
আগামীতে আরও বড় পরিসরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান করা যায় কিনা সে ব্যাপারে ভাবা যেতে পারে। যেমন আমরা যাদের পুরস্কার প্রদান করছি, তাদের কাজের কিছু অংশ তুলে ধরা যেতে পারে এই অনুষ্ঠানে।
ব্যস্ততার অভাবে সিনেমা দেখা হয় না বলে বক্তব্যে জানান প্রধানমন্ত্রী। তবে বিদেশ যাওয়ার সময় বিমানে বসে দেশের সিনেমা দেখেন তিনি। দেশের সিনেমা তাকে মুগ্ধ করে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের নাটককে বিশ্বমানের বলে ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।