মোঃ হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৪ দিন বাকী। গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের মহাজোট প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি’র নির্বাচনী প্রচারণা এখন সরব এবং তুঙ্গে উঠেছে। অপরদিকে ঐক্যজোট প্রার্থী জামায়াতের মাজেদুর রহমানের প্রচারণা নিরব হয়ে গেছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে সাধারণ ভোটারদের সমর্থন বেড়েই চলছে। শেষ মহুত্বে এসে মহাজোট নেতাকর্মীরা আদাজল খেয়ে রাতের ঘুম হারাম করে ভোটারদের দারে দারে ভোট প্রার্থনা করছেন। এক্যজোট প্রার্থীকে দুর্বল ভাবার সুযোগ নেই। কারণ তাদের রয়েছে একটি নিরব ভোট ব্যাংক। ভিন্ন কৌশলে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ আসনে যারা প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন তারা হলেনÑ মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপজেলা জাপার সভাপতি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি (লাঙল), ঐক্যেজেট প্রার্থী জামায়াত নেতা মাজেদুর রহমান (ধানের শীষ), গণতন্ত্রী পার্টির আবুল বাশার মো: শরিতুল্লাহ (কবুতর), বাংলাদেশ মুসলিমলীগের গোলাম আহসান হাবীব মাসুদ (হ্যারিকেন), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের গোলাম রব্বানী শাহ (মই), গণফ্রন্টের শরিফুল ইসলাম (মাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আশরাফুল ইসলাম খন্দকার (হাত পাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের হাফিজুর রহমান (বট গাছ), স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কাদের খান (মটর গাড়ি), আফরুজা বারী (আপেল), এমদাদুল হক নাদিম (কুড়াল)।
মহাজোট: ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের পরিসর। এই আসনে রয়েছে ২টি রেল স্টেশন, একটি থানাসহ ২টি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, একটি সরকারি কলেজ, ২টি সরকারি মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান ও একটি হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনটি জাতীয় পার্টির ঘাটি নামে ক্ষেত। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ৫ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে জাতীয় পার্টির এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। একবার এই আসনটিতে জামায়াতের আব্দুল আজিজ এমপি নির্বাচিত হয়। এরপর ক্ষমতাশীন আ’লীগের প্রয়াত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এবং উপ-নির্বাচনে গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ উপ-নির্বাচনে বর্তমান এমপি ও মহাজোট প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৭৯ হাজার ভোট পেয়ে আ’লীগের প্রার্থী আফরুজা বারিকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। আফরুজা বারি ভোট পেয়েছিলেন ৫৯ হাজার। সেই কারণেই মহাজোট প্রার্থী হিসেবে বর্তমান এমপি শামীমকে এই আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। ক্ষমতাশীন আ’লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ মহাজোটের শরিক দলগুলো ইতিমধ্যে কোমড় বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন মহাজোট প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য। দিন রাত পরিশ্রম করছেন মহাজোট নেতা কর্মীরা। মহাজোট প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, উপ-নির্বাচনে ৭ মাসের জন্য এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন করেছেন।
মহাজোট প্রার্থী এমপি শামীম তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে বলেন, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারী স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির নারকীয় তান্ডবে বামনডাঙ্গা তদন্ত কেন্দ্রের চার পুলিশ হত্যা, ছাত্রনেতা মামুন হত্যাসহ তান্ডবলীলা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুন্দরগঞ্জের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। যার কারণে এই পিছিয়ে পড়া জনপদের খেসারত দিতে হচ্ছে বর্তমার তরুণ ও যুবকদের। উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অল্প সময়ে তিনি জাতীয় সংসদে ২০০ মিনিট কথা বলে সংসদে ইতিহাস সৃষ্টি করে গোটা দেশ এবং বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট প্রশংসিত হয়েছেন। সে কারণে স্বল্প সময়ে তাঁকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করেছেন। এমপি শামীম নির্বাচিত হওয়ার এ পর্যন্ত দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিতদের বিনামূল্যে এ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট নিরসন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু, ডিল্পোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চালু, বন্ধ পাটক্রয় কেন্দ্র চালু, ৩১৯টি সোলার বাতি প্রদান, অবৈধ টোল বন্ধ, ৮০টি টিআর প্রকল্প প্রদান ও বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, চলমান প্রক্রিযায় রয়েছে স্বপ্নের তিস্তা সেতু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ক্রীড়া কমপ্লেক্স, পার্ক নির্মাণ, ঝিনিয়া বাজারে শেড, পাঁচপীর বাজারে ড্রেনেজ, শোভাগঞ্জ বাজারে রাস্তা, মন্ডলের হাট ও বিভিন্ন স্থানে শ্মশান নির্মাণ, শীতার্তদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, রামডাকুয়া ব্রিজ, রেল স্টেশন, কাপাসিয়া, বেলকা, হরিপুর ও চন্ডিপুর ইউনিয়নে নদীভাঙন রোধ সংরক্ষণ প্রকল্প। মহাজোট প্রার্থী এমপি শামীম তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেন নির্বাচিত হলে তিনি সকল শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল প্রদান, সকল মানুষের জন্য চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা, ৫০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণ, রেজিস্ট্রি অফিস দোতলা করণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সুন্দরগঞ্জ ও পাঁচপীরে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, প্রতিটি ইউনিয়নে লাইব্রেরি, ওয়াইফাই ও জিমন্যাশিয়াম স্থাপন, পৌর সভা, বামনডাঙ্গা, পাঁচপীরকে মডেল টাউনের রুপান্তর করা এবং ৫০ হাজার তরুণ ও বেকার যুবকদের ড্রাইভিং, নার্সিং, ইলেকট্রিসিয়ান, কম্পিউটার অপারেটর বিষয়ে দক্ষ করে কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি করবেন। তিনি জয়ে ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি।
উপজেলা আ’লীগ আহবায়ক টিআইএম মকবুল হোসেন প্রামানিক জানান, মহাজোট নেতাকর্মীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সহিত মাঠে কাজ করছে। জয়ের ব্যাপারে তিনি এবং তাঁর দল শতভাগ আশাবাদি।
ঐক্যজোট: ঐক্যজোট প্রার্থী জামায়াতের মাজেদুর রহমান গত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে ৬৮ হাজার ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বামনডাঙ্গা তদন্ত কেন্দ্রে ৪ পুলিশ, ছাত্রলীগ নেতা মামুন হত্যাসহ ডজন খানিক মামলা। সে কারণে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার ২৮ মার্চ জেলা হাজতে ছিলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান ইস্তেফা দিয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। এ উপজেলায় বিএনপি’র তেমন অবস্থান নেই বলেই চলে। জামায়াত শিবিরের ভোট ব্যাংক ঐক্যজোট প্রার্থীর একমাত্র সম্বল। বিভিন্ন মামলার কারণে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা বতর্মান ছত্রভঙ্গ অবস্থায় রয়েছেন। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণে ঐক্যজোট প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য নিরবে ভিন্ন কৌশলে ভোট প্রার্থনা করছেন জামায়াত শিবির নেতা কর্মীরা। নারী কর্মীদের মাধমে ভোটারের বাড়িতে গিয়ে গিয়ে ধর্মীয়ও অনুভূতি ব্যক্ত করে ভোট চাচ্ছেন তারা। এছাড়া মসজিদে মসজিদে নামাযের পর বিভিন্ন কৌশলে মুসলিদের নিকট ভোট কামনা করছেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলে রাতের অন্ধকারের ভোট সংগ্রহে মরিয়া হয়েছেন ঐক্যজোট প্রার্থীরা। ঐক্যজোট প্রার্থী মাজেদুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। একাধিক ঐক্যজোট কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, জয়ের ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদি।
গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে মোট ভোট সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৯৬ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্রে ১১১টি।