Wednesday, August 19

মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ, ফাঁসির রায় কার্যকর

0

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি আবদুল মাজেদ প্রাণভিক্ষা চেয়ে যে আবেদন করেছেন, তা নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

কারাকর্তৃপক্ষ  বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় বঙ্গবন্ধুর খুনির রায় কার্যকরে আর কোনো বাধা রইল না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এর আগে আবদুল মাজেদের ফাঁসির রায় কার্যকরে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গতকাল মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেন তিনি।

এরআগে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ারা জারি করেছেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। লাল সালু কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানার নথিটিও আদালত থেকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। এবার কারাবিধি অনুযায়ী রায় কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার সুযোগ পাবেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কড়া পাহারায় কারাগার থেকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে।

জজ আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় এসেছিল ২০০১ সালে। এরপর ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে চূড়ান্ত রায় আসে।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় বহু বছর আগেই পেরিয়ে যাওয়ায় আবদুল মাজেদ সে সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখেন না বলে এর আগে জানিয়েছিলেন এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

এর ফলে ফাঁসির দড়ি এড়ানোর একমাত্র সুযোগ বাকি ছিল সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া। সেই চেষ্টাই করেন বিচার এড়িয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে ভারতে পালিয়ে থাকা মাজেদ।

এখন তার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষের সামনে দণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকছে না। তবে দণ্ড কার্যকর করার আগে সাধারণত পরিবারের সদস্যদের শেষবার দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়।

মাজেদের স্ত্রী সালেহা বেগম, চার মেয়ে ও এক ছেলে ঢাকা সেনানিবাসের এক নম্বর রোডের একটি বাসায় থাকেন।

যোগাযোগ করা হলে সালেহা বেগম বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ তখনও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। প্রাণভিক্ষার বিষয়টিও তারা টিভি দেখে জেনেছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যতম আসামি আবদুল মাজেদ। দীর্ঘদিন তিনি ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন।

আবদুল মাজেদ গ্রেফতার হওয়ার পর আরও পলাতক আছেন পাঁচ জন। তারা হলেন–খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, এএম রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেম উদ্দিন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.